দেশের অর্থনীতিতে একসময় তৃতীয় স্থান অধিকার করা পশ্চিমবঙ্গ এখন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি বর্তমানে ১৩.৭৯ ট্রিলিয়ন টাকা। তালিকার শীর্ষে থাকা মহারাষ্ট্রের অর্থনীতি ৩১.৮০ ট্রিলিয়ন টাকা, কর্ণাটকের ২০.৫৬ ট্রিলিয়ন এবং গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতি ১৯ ট্রিলিয়নের ওপরে। বাংলার পড়শি বিহারের অর্থনীতি ৬.৪৭ ট্রিলিয়ন এবং অসমের ৪.২৪ ট্রিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
১৯৮১ সালে ভারতের অর্থনীতিতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান ছিল ৯.১ শতাংশ। সেই সময় কর্ণাটকের অবদান ছিল মাত্র ৫.৩ শতাংশ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের অবদান ৫.৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে কর্ণাটক ৮ শতাংশের ওপরে উঠে গেছে। পশ্চিমবঙ্গ এখন অবদানের নিরিখে নবম স্থানে।
মাথা পিছু আয়ের দিক থেকেও রাজ্যটি পিছিয়ে পড়েছে। ১৯৮১ সালে কর্ণাটকের তুলনায় বাংলার মাথা পিছু আয় ১৬ শতাংশ বেশি ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে কর্ণাটকের মাথা পিছু আয় বাংলার তুলনায় ১১১ শতাংশ বেশি হয়েছে। ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের মাথা পিছু আয় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪২ টাকা, যেখানে ছোট্ট রাজ্য সিকিমে এটি ৫ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ টাকা।
বাংলার পড়শি রাজ্য বিহারে মাথা পিছু আয় মাত্র ৫৩ হাজার ৪৭৮ টাকা হলেও, অসমে এটি ১ লাখ ১৯ হাজার ৩০৮ টাকা। অন্যদিকে ত্রিপুরার মাথা পিছু আয় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৪ টাকা, যা পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে অনেকটাই বেশি। কর্ণাটকে এই পরিমাণ ৩ লাখ ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা, আর দিল্লিতে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩০ হাজার ১২০ টাকা।
একসময়ের অর্থনৈতিক শক্তি পশ্চিমবঙ্গের এই পতন প্রশ্ন তুলছে প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে।
