বঙ্গ বিজেপিতে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাত এখন প্রকাশ্যে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের মধ্যে দূরত্ব এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যা সংগঠনের ঐক্যে বড়সড় প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডাকে ইমেল করেছেন সংখ্যালঘু মোর্চার প্রাক্তন রাজ্য সহ-সভাপতি সামসুর রহমান।
সম্প্রতি সুকান্ত মন্তব্য করেন যে, শুভেন্দু দলের বৈঠকে আসেন না কারণ তিনি ‘কমফোর্ট ফিল’ করেন না। এর পাল্টা শুভেন্দু বলেন, সুকান্ত কেন এমন মন্তব্য করেছেন, তা তিনি নিজেই ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। এই মতবিরোধে বঙ্গ বিজেপি কার্যত বিভক্ত।
এই দ্বন্দ্বের মাঝেই তৃণমূলের কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেন, শুভেন্দু রাজনৈতিকভাবে যোগ্য নেতা এবং তৃণমূলের প্রশিক্ষণের কারণে বিজেপির মধ্যেও তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অন্যদিকে, সুকান্তকে ‘রাজনীতির নবজাতক’ বলে কটাক্ষ করেন কুণাল।
বিভেদের প্রভাব সরাসরি দলের সাংগঠনিক কর্মীদের উপর পড়ছে। দলীয় নেতাকর্মীরা কোন দিকে যাবেন তা বুঝতে পারছেন না। লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই অস্থিরতা দলকে চাপে ফেলছে।
দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই অমিত শাহ এবং জেপি নড্ডা দিল্লিতে শুভেন্দু ও সুকান্তের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। বাজেট অধিবেশনের সময় ফেব্রুয়ারিতে এই বৈঠক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বঙ্গ বিজেপির এই দ্বন্দ্ব সামলাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।