চার বছর আগে হরিশচন্দ্রপুরের তিন তরতাজা ছেলেকে হারানোর যন্ত্রণা আজও ভুলতে পারেননি তোরাব আলি ও রোজিনা বিবি। ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কলকাতার কুঁদঘাটে ম্যানহোলে নেমে কাজ করতে গিয়ে মিথেন গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের তিন ছেলে—মহম্মদ আলমগির (২৮), জাহাঙ্গির আলম (২৩) এবং সাবির আলম (১৭)-সহ চার যুবকের।
কিন্তু প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় একই ঘটনা ঘটল আবারও। রবিবার, বানতলায় ম্যানহোলে নেমে কাজ করতে গিয়ে তিন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হল। এই খবর শুনে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন তোরাব ও রোজিনা। সোমবার ফোনে তোরাব বলেন, “প্রশাসনের গাফিলতিতে আমার তিনটি ছেলেকে হারিয়েছি। এবারও একইভাবে তিনজনের মৃত্যু হল। তাহলে কি এই মৃত্যু থামবে না?”
২০২১ সালের ঘটনার পর কলকাতা পুরসভা তদন্ত কমিটি গঠন করলেও কার্যত কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঠিকাদার সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা ছাড়া পুরসভার কোনো আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ম্যানহোলে সরাসরি শ্রমিক নামানো বেআইনি হলেও আইন ভেঙে বারবার একই ঘটনা ঘটছে।
পুরসভার এক শীর্ষ কর্তা অবশ্য দাবি করেছেন, “বানতলার কাজটি পুরসভার অধীনে ছিল না, এটি কেইআইআইপি প্রকল্পের আওতাভুক্ত ছিল।” তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রশ্ন, “কেবল ঠিকাদারি সংস্থাকে শাস্তি দিলেই কি প্রশাসনের দায় শেষ? নিরাপত্তাহীন অবস্থায় মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার দায় কে নেবে?”
এই ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন পুরসভার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করেছে। বিচারাধীন অবস্থায় থাকা কুঁদঘাটের ঘটনার মতো বানতলার ঘটনায়ও কি প্রশাসন দায় এড়াবে, নাকি এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? প্রশ্ন উঠছে সর্বস্তরে।
