দিল্লি কা লাড্ডু কার হাতে?
কেজরিওয়াল না বিজেপি?
চার মাস আগেও কিন্তু ছবি টা ছিল বেশ অস্পষ্ট, কেজরিওয়াল জেল এ, তাঁর বিরাট খরচায় বানানো মূখ্যমন্ত্রীর বাংলো নিয়ে নানান কথা, মন্ত্রীসভার বেশ কয়েকজন জেলে। মনে হচ্ছিল বিজেপি সম্ভবত এবারে কেক ওয়াক, অনায়াসে জিতে যাবে। কিন্তু ছবিটা বদলাতে থাকলো ক্রমশঃ। কেজরিওয়াল থেকে মণীষ শিশোদিয়া প্রত্যেকেই বেরিয়ে এলেন, বেরিয়ে এসে নিজে মূখ্যমন্ত্রী হয়ে আবার গদিতে বসবেন এরকম ভুল করলেন না কেজরিওয়াল, আতিশীই কাজ চালাচ্ছেন, সব্বাই জানে যে বকলমে মূখ্যমন্ত্রী সেই কেজরিওয়াল, কিন্তু তবুও মূখ্যমন্ত্রীর পদ আঁকড়ে না ধরার মেসেজটা গেছে মানুষের কাছে। ঠিক ঐখান থেকেই লড়াইটা ঘুরতে শুরু করে দিল, গলায় মালা পরে কেজরিওয়াল জেল থেকে বের হলেন, বিশাল র্যালি হল, মিছিলের সামনে হাত নাড়ছেন কেজরিওয়াল, আম জনতার কাছে লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার মেসেজ মিছিমিছিই চুরির দোষে কেজরিওয়াল কে জেলে পোরা হয়েছিল, হ্যাঁ এখনও আমাদের দেশে এই ইডি সি বি আই মামলায় জেলে গিয়ে বাইরে আসার মানে অন্তত সাধারণ মানুষের কাছে, উনি চোর নন, উনি অপরাধী নন, অন্তত ওনার বিরুদ্ধে সেরকম কোনও প্রমাণ এনে হাজির করতে পারেনি সরকার, ওনাকে মিছি মিছি হ্যারাস করা হচ্ছিল। হ্যাঁ এই কথাগুলোই ভাবেন আম জনতা।
আপনি আইনের ভাষায় যা খুশি তাই ভাবতে পারেন। আমাদের দেশে দূর্নীতির অভিযোগ ক্রমশ তার ধার ভার হারাচ্ছে এই কারণেই। বিজেপি সরকার, মোদি – শাহ সরকারের আমলে ইডি আর সি বি আই এর মামলার পর মামলাতে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এক, দুই, তিন, চার বছর পরে তাদের অপরাধ এর যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় হয় তাদের ছেড়ে দিতে হয়েছে, নাহলে তারা জামিন পেয়েছে। ফলে মানুষ এই ইডি সি বি আই এর গ্রেপ্তারি ইত্যাদিকে আমল দিতে চায় না, কিন্তু মন্ত্রী সভার মাথা মূখ্যমন্ত্রীকেই যদি জেলে পোরা হয় তাহলে তার প্রভাব পড়বে বৈকি, কিন্তু এক্ষেত্রে কেজরিওয়াল, মণিষ শিশোদিয়া জামিন পেয়ে যাবার কারণেই মানুষের কাছে এক অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন গোছের মেসেজ গেছে। দু নম্বর ব্যাপার হল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না থাকা। এমনিতেই বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের সিংহ ভাগ কিন্তু ঐ কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই, কংগ্রেস তাদের কাছে বহুদিন ধরেই সফট টার্গেট। কংগ্রেস জোটে থাকলে ঐ বংশানুক্রমিক শাসন, এমার্জেন্সির ইতিহাস সব বার হতো ঝোলা থেকে, আর তার দায়ভাগ গিয়ে পড়তো আম আদমী পার্টির ওপরে, কেজরিওয়ালের ওপরে। এখন সেই দায় নেই। আর দিল্লির আরেক ইতিহাস হল ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পরে শিখদের গণহত্যা, যার দায় নেবার পরেও, বারবার দুঃখ প্রকাশ করার পরেও কংগ্রেস্কে কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং কংগ্রেস কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে থাকে, কাজেই ঐ কংগ্রেস এর সঙ্গে জোট না হওয়ায় বা বলা যাক ইন্ডিয়া জোট না হওয়াতে কিন্তু কেজরিওয়াল অ্যাডভ্যানটেজ, অন্তত শিখ গণহত্যা, জরুরি অবস্থা বা ঐ বংশানুক্রমিক শাসনের দায়ভার নিতে হচ্ছে না।
