দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টি (আপ)-র ভরাডুবি নিয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। তাঁর মতে, ছয়টি বড় কৌশলগত ভুল কেজরীওয়ালকে হারিয়ে দিয়েছে। বিজেপি ৪৮টি আসন জিতে দিল্লির মসনদে ফিরলেও আপ পেয়েছে মাত্র ২২টি আসন। অথচ ২০২০ সালে এই আপ-ই ৬২টি আসন জিতে টানা দ্বিতীয়বার সরকার গড়েছিল।
সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত জানিয়েছেন, প্রথম বড় ভুল ছিল কেজরীওয়ালের রাজনৈতিক অবস্থানের অস্থিরতা। প্রথমে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’তে যোগ দেওয়ার পর ভোটের সময় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করা—এই সিদ্ধান্ত আপের প্রতি অবিশ্বাস বাড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত, দিল্লিবাসীর মনে ১০ বছরের শাসনকাল নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়াকে আরও উসকে দেয়।
তৃতীয়ত, আবগারি মামলায় গ্রেফতারির পরও কেজরীওয়ালের পদত্যাগ না করা বড় ভুল ছিল বলে মনে করেন প্রশান্ত। তাঁর মতে, জামিনের পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভোটের আগে নতুন মুখ আনলে পরিস্থিতি বদলাত। চতুর্থত, দিল্লির বস্তি সমস্যার সমাধানে প্রশাসনিক ব্যর্থতা আপের ভোট কমিয়েছে। পঞ্চমত, বর্ষাকালে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা মেটাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে, যা নাগরিকদের অসন্তুষ্ট করেছে। ষষ্ঠত, কেজরীর দলীয় সংগঠনে দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল, যা ভোটের ক্ষতির অন্যতম কারণ।
২০২০ সালের আপের ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর সংস্থা ‘আইপ্যাক’ই কেজরীর নির্বাচনী কৌশল ঠিক করেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের নির্বাচনেও ‘আইপ্যাক’ কেজরীর রণনীতি তৈরি করলেও এবার ব্যর্থ হয়েছে। তবে প্রশান্ত স্পষ্ট করেছেন, এখন তিনি ‘আইপ্যাক’-এর সঙ্গে যুক্ত নন।
