গ্রামের পথ-ঘাটে, পুকুরপারে, অবহেলায় বড় হওয়া এক অমূল্য ভেষজ উদ্ভিদ কুলেখাড়া। দেখতে তেমন আহামরি না হলেও এর ঔষধি গুণ জানলে অবাক হতে হয়। হালকা বেগুনি রঙের ছোট ফুলে ভরা এই গাছ বহু প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
শরীরে রক্তাল্পতা দেখা দিলে কুলেখাড়ার পাতার রস এক অনন্য ওষুধ হতে পারে। নিয়মিত এই পাতার রস পান করলে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ে এবং অ্যানিমিয়া কমে যায়। শুধু তাই নয়, কুলেখাড়ার রস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কার্যকরী। রাতে ভালো ঘুম না হলে সন্ধ্যায় এক কাপ কুলেখাড়ার পাতার রস পান করলেই কাজ হবে। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এই পাতার রস ঘুমের সমস্যা কমাতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কুলেখাড়া এক আশীর্বাদ। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে কুলেখাড়ার রস। নিয়মিত এই ভেষজ পান করলে রক্তের অতিরিক্ত শর্করা ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াই ভালো।
ক্ষত নিরাময়ে কুলেখাড়ার গুণ অতুলনীয়। হাত বা পা কেটে গেলে এর পাতা বেটে ক্ষতস্থানে লাগালে রক্ত পড়া বন্ধ হয় এবং দ্রুত সেরে ওঠে। কেবল বাহ্যিক নয়, অন্তঃসত্ত্বা সমস্যা দূর করতেও কার্যকরী এই গাছ। হজমশক্তি বাড়িয়ে তুলতে ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে এটি দারুণ কাজ করে। অনেক শিশু কৃমির সমস্যায় ভোগে। এই সমস্যার সমাধান আনতে কুলেখাড়ার পাতার রস কার্যকর ভূমিকা রাখে। শিশুকে নিয়মিত এই রস খাওয়ালে পেটের সমস্যা দূর হয়ে যায়।
যারা বাতের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের জন্যও কুলেখাড়া আশীর্বাদ হতে পারে। নিয়মিত এই পাতার রস পান করলে শরীরের ব্যথা ও ফোলাভাব অনেকটাই কমে যায়। স্থানীয়ভাবে বহু গ্রামে এই গাছের ব্যবহার প্রচলিত। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা প্রাকৃতিক ওষুধের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি। কুলেখাড়ার মতো সহজলভ্য এক ভেষজকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার করলে অনেক কঠিন রোগের সমাধান পাওয়া সম্ভব।
