কলমে সমীর ঘোষ
এ যেন শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ। যেকোনও মুহূর্তে গাজায় পুনরায় তীব্র যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে আমরা প্রস্তুত বলে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রোববার এক সেনা কর্তাদের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঠিক এর আগের দিন, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে প্যালেস্তেনীয় বন্দীদের মুক্তি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে তাতে প্রথম ধাপে ৪২ দিনে হামাসের মোট ৩৩ ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা।এর বিনিময়ে ইজরায়েল ১ হাজার ৯০০ প্যালেস্তেনীয়কে মুক্তি দেওয়ার কথা।
কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি? ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দাবি, প্রতিবার বন্দিদের মুক্তির সময় হামাস একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যা ‘অপমানজনক’।এই ব্যাপারটা বন্ধ করতে হবে।আসলে প্রতি বার মুক্তি দেওয়ার সময় বন্দিদেরদের পদযাত্রার মাধ্যমে মঞ্চে নিয়ে এসে হামাস সদস্যরা তাদেরকে উপস্থিত গাজাবাসীর উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাতে বাধ্য করে – এমনটাই অভিযোগ ইজরায়েলের।অর্থাৎ জোর করে ভাল আছি দেখানো বা হামাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখানোর চেষ্টা করা হয় এর মাধ্যমে। হামাসের এই কায়দা একেবারেই না পছন্দ ইজরায়েলের।গত ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হামাস এ পর্যন্ত ২৫ জন বন্দিকে এভাবেই মুক্তি দিয়েছে বলে অভিযোগ। এরই পাশাপাশি হোয়াইট হাউস থেকেও ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়ে বলা হয়েছে যে হামাস ইসরায়েলি বন্দিদের সঙ্গে বর্বর আচরণ করেছে। প্যালেস্তেনীয় কারাবন্দীদের মুক্তি পিছিয়ে দিয়ে যথাযথ কাজই করা হয়েছে।
বার বার বলেও কাজ না হওয়ায় এবার সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। শনিবার সপ্তম দফায় বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে ছ’জন বন্দিকে ও চার মৃতদেহ হামাস প্রত্যর্পন করলেও বিনিময়ে কিন্তু ৬০০ জনেরও বেশি বন্দিকে মুক্তি দেয় নি ইজরায়েল। তাদের দাবি এ ধরনের অপমানজনক অনুষ্ঠান ছাড়া বন্দিদের মুক্তি দিলে তবেই নতুন ভাবনা ভাবা হবে।
এদিকে এর পরেই হুমকি দিয়েছে হামাস। তাদের দাবি আগে প্যালেস্তেনীয় কারাবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে এবং তারপরেই কেবল গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইজরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করবে তারা।এ কথা জানিয়েছেন হামাস নেতা বাসেম নাঈম। তার আরও দাবি চুক্তিতে সেসব শর্ত থাকে, শত্রুরাও যাতে তা মেনে চলে, তা মধ্যস্থতাকারীদের নিশ্চিত করতে হবে।
আর এরপরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নতুন করে নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা যুদ্ধের লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে অর্জন করব – তা আলোচনার মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনও উপায়ে।” ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “যেকোনো মুহূর্তে তীব্র যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে আমরা প্রস্তুত,”
