১৪৪ বছর পর মহাকুম্ভ যোগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “১৪৪ বছরের বিষয়টা নিয়ে আমি অজ্ঞ। তবে আমি যতদূর জেনেছি ২০১৪ সালেও মহাকুম্ভ হয়েছিল। ১২ বছর অন্তর মহাকুম্ভ হয়” নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরো বলেন,”১৪৪ বছরের বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, প্রতি বছর গঙ্গাসাগরে পুণ্য স্নান হয়। রাজ্য সরকার তা নিয়ে ‘হাইপ’ তুলতে চায় না। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য,”আমার যতটা ক্ষমতা আমি ততটাই করতে চাই।” প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনার অভাব ছিল বলেও মনে করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মমতা জানিয়েছেন,”ঘটনা বা দুর্ঘটনা হতেই পারে। কিন্তু যথাযত পরিকল্পনা না থাকলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বেই।” একই সঙ্গে তার অভিযোগ, কুম্ভ স্নান নিয়ে তার বক্তব্যকে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিকৃত করা হয়েছে। “আমি কোন ধর্মকে অসম্মান করি না, করবো না। আমরা সর্বধর্ম সমন্বয় চাই। অনেকেই আমার বক্তব্যকে বিকৃত করে কুৎসা অপপ্রচার করেছেন। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা” উস্মা প্রকাশ করে বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে দক্ষিণ কলকাতায় তৎকালীন আমরি হাসপাতালের দুর্ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন,”আমরা রাত জেগে বসে একশোর বেশি মৃতদেহর ময়নাতদন্ত করেছি। সমস্ত পরিবারের হাতে মৃত্যুর শংসাপত্র এবং চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছি।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ,”যোগী সাহেব আমাকে যতই গালাগালি দিন,আমার ফোসকা পড়বে না। আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যোগী সাহেবকে শ্রদ্ধা করি। তবে আমার কথা আমি বলব।” মুখ্যমন্ত্রী এরপর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে আর্জি জানিয়ে বলেন,”যে পরিবারগুলো স্বজনহারা হয়েছে তারা সবাই যেন ক্ষতিপূরণের আওতায় আসেন। শুধু পুণ্য স্নান করতে গিয়েই নয়, রেল বা সড়কপথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তাদের কথাও যান আপনি মাথায় রাখবেন।”
এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে চা পর্যটন নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে সে সম্পর্কেও আজ ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “চা উৎপাদন বজায় রেখেই চা পর্যটন হবে উত্তরবঙ্গে” সাফ জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের চা পর্যটন নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন। তিনি জানান,”চা বাগানে জমি ফ্রি হোল্ড হয় না, লিজ দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে কোন আইন পরিবর্তন করা হবে না।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন,”চা উৎপাদনের কাজে অব্যবহিত ১৫ শতাংশ জমি চা পর্যটনের কাজে লাগানোর জন্য অনুমতি দেয়া হয় হয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ কিছু “ভুতুড়ে দল” চা পর্যটন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এর আগে চায়ের জমি চা পর্যটন হিসেবে ব্যবহার করার জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চা বাগানের ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছিল। সেই বিভ্রান্তি দূর করতেই মঙ্গলবার চা বাগান সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে রাজ্যের মুখ্য প্রশাসনিক ভবন নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান মুখ্যমন্ত্রী। “চা বাগানে যে জমিতে চা চাষ হচ্ছে তার বাইরে পড়ে থাকা জমিকেই আমরা দেওয়ার কথা বলেছি। কাউকে আমরা একেবারে জমিয়ে দিচ্ছি না। যেখানে আশি শতাংশ স্থান স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রভিডেন্ট ফান্ড ঠিকমতো দিয়েছে কিনা, গ্র্যাচুইটি ঠিকমত দেওয়া হয়েছে কিনা সেগুলো খতিয়ে দেখে তবেই কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হবে” জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চা পর্যটন যারা করতে চাইছেন তাদের যোগ্যতা রয়েছে কিনা তার জন্য মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে ‘এস ও পি’ তৈরি করা হয়েছে। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখার পরেই তবেই চা পর্যটনের জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য প্রশাসনিক ভবন নবান্নতে ছিল রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক। 6 টি চা বাগানকে তিন বছরের জন্য নিজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন,”এই তিন বছরের সমস্ত মাপকাঠি বজায় রাখতে পারেন তবেই আগামী ৩০ বছরের লিজ দেওয়া হবে।”
পাশাপাশি আলু চাষীদের জন্যও সুখবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।”আলু চাষীদের সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ৯০০ টাকা ধার্য করেছে মন্ত্রিসভার বৈঠক” সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরো জানান,”ডিভিসির ছাড়া জলে যে মাঠের আলু ভিজে গিয়েছে তার বেশিরভাগটা সরকার কিনে নিয়েছে। এবং সুফল বাংলার স্টলে তা বিক্রি করা হবে। এবং বাকিটা ৩২১ টাকা শস্য বীমার আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে বিমার টাকা রাজ্য সরকার দেবে।” কালীঘাটের স্কাইওয়াক ইতিমধ্যেই শেষের পথে। তার পাশাপাশি দীঘার জগন্নাথ মন্দির আগামী অক্ষয় তৃতীয়াতে উদ্বোধন হবে বলে ফের জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দীঘার জগন্নাথ মন্দির সংক্রান্ত যে ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে তা মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সবুজ সংকেত পেয়েছে। মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে মোট ১১ জন অফিসার, ইসকন, কালীঘাট মন্দির, পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির, জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি, সনাতনী সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশনের একজন প্রতিনিধি সহ মোট ২৭ জনের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।জগন্নাথ দেবের মন্দির সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্ব পাবে হিডকো বলেও জানান তিনি।
