আগামী 27 ফেব্রুয়ারির মেগা বৈঠকে তা ফের বোঝাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে নেতাজি ইন্ডোরের এই বৈঠকে দলীয় সংগঠনে নিজের পুরনো ফর্মূলাই প্রয়োগ করতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী বলে সূত্রের খবর। দলীয় সুত্রে জানা গেছে, মূলত জেলায় জেলায় দলীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ, ছাত্র ও যুব সংগঠন সহ দলের বিভিন্ন স্তরে রদবদল এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রবীণ-নবীন তত্ত্ব নস্যাত করে দলের “পুরাতনী”
আস্থাভাজনদের ফের জেলা পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিতে পারেন তৃণমূলনেত্রী বলে রাজনৈতিক সূত্রের খবর। পাশাপাশি ভোট রাজনীতির পাঠে বা স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে তাঁর কোনো পরামর্শদাতার যে প্রয়োজন নেই তাও স্পষ্ট করবেন মমতা বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত তৃণমূলের অভ্যন্তরে সংগঠনিক রদবদলের দাবি ক্রমশ তীব্র হয়েছে। জেলা স্তর থেকে ছাত্র-যুব সংগঠনে এই রদবদলের প্রয়োজনীয়তার কথা দলের অভ্যন্তরে বারবার শীর্ষ নেতারা আলোচনাও করেছেন। বৃহস্পতিবারের নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মেগা বৈঠকে সেই সাংগঠনিক রদবদলের রুপ লেখায় নিশ্চিত করবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বস্তুত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনের রাশ নিজের হাতেই নিয়েছেন মমতা। সেই সূত্রেই তৃণমূলের একাংশ মনে করছেন, দলনেত্রী ফিরে যেতে পারেন তাঁর পুরনো ফর্মুলায়। যেখানে তিনি রাজ্যস্তরের পুরনো নেতাদের পর্যবেক্ষক পদে নিয়োগ করে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রাখবেন। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই রাজ্যস্তরের নেতাদের জেলা সংগঠনের পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করতেন তৃণমূল নেত্রী। দলের একাংশের মতে, তৃণমূলের পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শেই পর্যবেক্ষক পদ তুলে দেন মমতা। তখন একসঙ্গে সাতটি জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর সঙ্গেও দলের দূরত্বও বাড়ছিল। তাই পর্যবেক্ষক পদ তুলে মুখ্যমন্ত্রী আসলে শুভেন্দুর ডানা ছেঁটেছিলেন বলেই অনেকের মত। এখন মমতা নিজের পুরনো কৌশলেই বিধানসভা ভোট করাতে চান বলে মনে করছেন দলের অনেকেই। পাশাপাশি দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের খোলনলচেও বদলাতে চান মমতা। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের কোন রদবদল করেনি শীর্ষ নেতৃত্ব। এ বার ভোটের পরিস্থিতিতে বদল ঘটেছে। ২০২১ সাল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের মতো করে দল পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু গত বছর লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে তিনি কার্যত ডায়মন্ড হারবারে নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের ‘আদি’ নেতাদের একাংশের যুক্তি, দলের ‘অভিজ্ঞ এবং প্রবীণ’ নেতাদের আরও সক্রিয় ভাবে সংগঠনের দায়িত্বে ফেরাতে পারেন মমতা। সেক্ষেত্রে, পুরনো এবং পরীক্ষিত’ নেতাদের গুরুত্ব বাড়ানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী মলয় ঘটক, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের মতো নেতাদের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা।পাশাপাশি জেলমুক্ত অনুব্রত মণ্ডল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকরা কোন ভূমিকায় দলের কাজে লাগতে পারেন সেদিকেও বৃহস্পতিবারের বৈঠকে নজর থাকবে।
