মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কির বৈঠকের দিকে শুক্রবার তাকিয়েছিল গোটা বিশ্ব।কারণ রাশিয়ার বিশেষ বন্ধু হয়ে,কিয়েভের সঙ্গে খনিজ চুক্তি করে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার প্রতিশুতি দিয়েছিলেন।কিন্তু শুক্রবারের ঘটনা সেই উদ্যোগে কিছুটা জল ঢেলে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে আলোচনা শুরু হয়েছিল পরস্পরকে প্রশংসা বিনিময়ের মাধ্যমেই, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা তীব্র বিতর্কে রূপ নেয়। হোয়াইট হাউসে উপস্থিত বিশ্ব মিডিয়ার সামনে এই প্রকাশ্য বাগ্যুদ্ধের পরে
ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলকে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করতে বলা হয় এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক লাঞ্চ অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায় বলে এনডিটিভি ডট কম জানিয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেড ভ্যান্স রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তখন থেকেই দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
জো বাইডেনের নাম না করে ভ্যান্স জানান, “চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, যিনি প্রেস কনফারেন্সে দাঁড়িয়ে ভ্লাদিমির পুতিন সম্পর্কে কঠোর কথা বলে গেছেন।তারপর পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করে দেশটির একটি বড় অংশ ধ্বংস করেছেন।তবে শান্তি এবং সমৃদ্ধির পথ সম্ভবত কূটনীতির মাধ্যমেই অর্জন করা যেতে পারে।”
যদিও জেলেনস্কি জবাব দেন, “২০১৪ সালে পুতিন ইউক্রেনের বড় অংশ, পূর্বাঞ্চল এবং ক্রিমিয়া দখল করে নেন। তখন কেউই তাকে থামায়নি। তিনি মানুষ মেরেছেন।” জেলেনেস্কি ক্রিমিয়া দখলের কথা উল্লেখ করে বলেন, “২০১৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পরিস্থিতি একই ছিল। সীমান্তে মানুষ মারা যাচ্ছিল। কেউ তাকে থামায়নি। আমরা তার সঙ্গে অনেক আলোচনা করেছি, চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু তিনি সেই চুক্তি ভেঙে দিয়েছেন, আমাদের মানুষ মেরেছেন।”
বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠলে জেলেনস্কি ভ্যান্সকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি কখনো ইউক্রেন গেছেন এবং তাদের সমস্যাগুলো দেখেছেন। ভ্যান্স জবাব দেন, “আমি খবরগুলো দেখেছি এবং শুনেছি। আমি জানি আপনি মানুষদেরকে ধ্বংসের প্রচারমূলক ট্যুরে নিয়ে যান।”
এই উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, “যুদ্ধের সময় সবারই সমস্যা থাকে, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও। আপনার কাছে ভালো সমাধান থাকলেও এখনই আপনি তা অনুভব করছেন না, ভবিষ্যতে করবেন।”
জেলেনেস্কির এই মন্তব্যে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “আপনি জানেন না আমরা কী অনুভব করব। আমাদের বলবেন না আমরা কী অনুভব করব। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।” ট্রাম্প আরও বলেন, “আপনি এখন খুব ভালো অবস্থানে নেই। আপনি নিজেকে খুব খারাপ অবস্থানে নিয়ে গেছেন। আপনি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। আপনি এই দেশের প্রতি খুব অসম্মানজনক আচরণ করছেন।”
তবে এত বাগযুদ্ধের পরেও যুদ্ধ থামার বা থামাবার আশা একেবারে ত্যাগ করেন নি ট্রাম্প।বিতর্কের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেন, ভলোদমির জেলেনস্কি “যখন শান্তির জন্য প্রস্তুত হবেন, তখন ফিরে আসতে পারেন।” তিনি আরও লেখেন যে, “আমাদের হোয়াইট হাউসে একটি খুব অর্থপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। এমন আগুন এবং চাপের মধ্যে কথোপকথন ছাড়া অনেক কিছুই বোঝা সম্ভব ছিল না। আমি নিশ্চিত হয়েছি যদি আমেরিকা এর মধ্যে ঢুকে থাকে তবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত নন।”
পাশাপাশি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অবশ্য ট্রাম্পের সঙ্গে এমন বিতর্কের জন্য ক্ষমা চাইতেও অস্বীকার করেন। তিনি জানান,আমি খারাপ কিছু করিনি। তবে ট্রাম্পের মতই তিনিও আশা ছাড়তে নারাজ।তাঁর মতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক এখনও মেরামত করা সম্ভব।
Leave a comment
Leave a comment
