যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্রদের একাংশ। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা তাঁকে আটকে দেন, প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য স্পষ্ট—“একজন শিক্ষক, যিনি ছাত্রের ওপর গাড়ি চালিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা দেওয়া চলবে না।” অভিযোগ উঠেছে, শুধু প্রবেশ পথেই নয়, অধ্যাপকের নির্দিষ্ট ঘরের দরজাতেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তিনি সেখানে ঢুকতে না পারেন।
অন্যদিকে, এসএফআই ও এআইডিএসও-সহ একাধিক ছাত্র সংগঠন এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। প্রতিবাদ যখন চরমে পৌঁছায়, তখন অধ্যাপক মিশ্র হাতজোড় করে অনুরোধ করেন ক্যাম্পাসে ঢোকার জন্য। তিনি বলেন, “আমি এখানকারই একজন শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করা আমার অধিকার।” কিন্তু উত্তেজিত ছাত্রদের একাংশ তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ তখন ক্রমশ জটিল হতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ক্যাম্পাসে সাদা পোশাকে পুলিশ ঘুরে বেড়াচ্ছে, এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপকের ঘরের সামনেও তাঁদের উপস্থিতি দেখা গেছে। পরে অবশ্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অধ্যাপক মিশ্রের প্রবেশ সম্ভব হয়।
এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র জানান, “শান্তিপূর্ণভাবে বসে প্রতিবাদ করা কখনোই সহিংসতার পর্যায়ে পড়ে না। এটি শুধুই এক ধরনের প্রতিক্রিয়া। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব সকলের, তাই কোনো সমস্যা থাকলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, বিশৃঙ্খলা তৈরি করে নয়।”
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী ছাত্রদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের দাবি, “যে শিক্ষক নিজের গাড়ির ধাক্কায় ছাত্র আহত করেছিলেন, তাঁকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়। তাঁকে আটকে দেওয়া একেবারেই ন্যায্য প্রতিবাদ।” এ ছাড়া অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ কিছু বহিরাগত ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রদের আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করেছে এবং ছাত্রীদের জোর করে সরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সাদা পোশাকে পুলিশের উপস্থিতির বিষয়টিও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম এই ঘটনার জেরে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ক্লাসরুমে পাঠদান থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাজকর্ম, সব কিছুতেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সাধারণ ছাত্রদের অভিযোগ, প্রতিদিন এই ধরনের অচলাবস্থা চলতে থাকলে একাডেমিক কার্যক্রম বিপর্যস্ত হবে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে তাঁদের পড়াশোনায়।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের একাংশের মত, শিক্ষকদের কাছ থেকে যদি এই ধরনের আচরণ প্রকাশ্যে আসে, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা জরুরি। তাঁদের মতে, এর সঠিক প্রতিকার না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হবে।
১ মার্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক ছাত্র আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। একই দিনে অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রের গাড়ির ধাক্কায় আরেক ছাত্র আহত হয়েছেন বলে দাবি করে বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনার জেরে সোমবার যখন অধ্যাপক মিশ্র ক্যাম্পাসে ঢুকতে যান, তখনই ছাত্রদের একাংশ প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যাপক মিশ্র বাধ্য হয়ে হাতজোড় করে অনুরোধ করেন, যাতে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
এখন প্রশ্ন, এই পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান আদৌ সম্ভব কি না? তবে ক্যাম্পাসজুড়ে এখনও প্রতিবাদ অব্যাহত, মোতায়েন রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ, বাইরেও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছাত্রদের দাবি, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।”
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
