সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
———————–‘
একদিকে প্রতিবেশী বাংলাদেশে উত্তাল ধর্মীয় মেরুকরণ এবং অন্যদিকে রাজ্যের অন্দরেই দিনের পর দিন ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনৈতিক চেষ্টা। এই সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ বা বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে আজ রাজ্য বিধানসভায় ইন্দ্র কে একহাত নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা ইন্ডিয়া মঞ্চের অন্যতম প্রধান মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে দিনের পর দিন রাজনৈতিক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কেউ কটাক্ষ করলেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে গিয়ে মমতা বলেন
“আপনাদের এই ধর্ম মানে শুধু মানুষ কে খুন করা, মানুষ কে কেটে ফেলা, টুকরো টুকরো করা। আপনারা সেই ধর্ম করছেন।
আমি যদি বাইরে কিছু বলি তখন তো আপনারা সেটা নিয়ে আলোচনা করেন। বাইরে যদি আপনাদের অফিসিয়াল লিডার কিছু বলেন তাহলে কেন সেটা নিয়ে আলোচনা হবে না ?”
মমতা আরো বলেন “আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন সৌদি আরবে যান তখন তো ইরাক বা ইরানে যান তখন তো কেউ আপত্তি করে না। আমাদের দেশের দ্বিতীয় নেতার ছেলে আইসিসির চেয়ারম্যান হিসাবে যখন বললেন যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের জন্য পাকিস্তান কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তখন তো আমরা কেউ কিছু বলিনি যে কেন পাকিস্তান কে ধন্যবাদ জানানো হলো। এই কথা যদি আমাদের কেউ বলতো তাহলে তো আপনারাই চিৎকার শুরু করে দিতেন।”
শুধু বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকার সমালোচনাই নয় কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব বা তাদের বাংলা বিদ্বেষী রাজনীতির কথা উল্লেখ করে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে “কেন্দ্রের সরকার দুটো দলকে নিয়ে দেখাচ্ছে স্টেবল সরকার চালাচ্ছে। আসলে টোটাল আনস্টেবল। এরা (বিজেপি) শুধু ভুল এজেন্সি দিয়ে কাজ করে। এক বড়বাবু আরেক বড়বাবুর কাছে গিয়ে বলে আসেন কাকে কাকে ইডি ধরবে, সিবিআই ধরবে। এখন দেখছি আবার দলের সভাপতি হওয়ার জন্য লড়াই করছেন। আরে সভাপতি হওয়ার জন্য কি লড়াই করতে হয় না কি। সেটা তো দলই ঠিক করে।”
মমতার সাফ কথা, এক মণিপুর চালাতে পারছেন না। হিমসিম খাচ্ছেন। আর আপনারা চালাবেন বাংলা ?” মমতার পাল্টা প্রশ্ন, “আপনারা মুসলিমদের কেন টিকিট দেন না? আমি তো হিন্দুদের ৭৯ শতাংশ টিকিট দিই, তখন তো আপনারা কিছু বলেন না!
অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক বেশ কিছু বক্তব্য নিয়েও খুব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী। গতকাল বিধানসভায় এসে শুভেন্দু অধিকারী বেশ কিছু ধর্মীয় মেরুকরণ সংক্রান্ত বেশ কিছু বক্তব্য রেখেছেন যেখানে ধর্ম নিয়ে উন্মাদনা বা উস্কানিমূলক বক্তব্যের ইঙ্গিত পাচ্ছেন রাজনৈতিক মহলও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন,একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে যে কথা বলা হয়েছে (শুভেন্দু অধিকারী) সেটা কোনোমতেই কাম্য নয়। সেটাকে ধিক্কার জানাই।
যিনি এই কথা বলেছেন তাকে একদিন পস্তাতে হবে। তিনি তিনবার দল বদলেছেন। আগে কংগ্রেস করতেন, তারপর তৃণমূলে এসেছিলেন। দলটাকে ঘেঁটে দেওয়ার জন্য। তারপর এখন বিজেপিতে গিয়েছেন।আগামি দিনে দেখবেন আবার কোনো দলে যাওয়ার জন্য রিকোয়েস্ট আসবে।”
শুভেন্দু অধিকারীদের উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ “তুমি এখন শুধু জামাটা বদলেছো। এই জামাটা আবার যেন না লাল জামায় পরিনত হয়”
প্রতিবেশী বাংলাদেশের যা ঘটছে বা সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট সংবেদনশীল বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ রাজ্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সরকারিভাবে কোন বক্তব্য রাখা সমীচীন নয় বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর সংকল্প,”সব ধর্মকে রক্ষা করা এই চেয়ারের কর্তব্য। সেটা আমি করবোই।” বরং প্রতিবাদের সুরে মমতার ঘোষনা, “আপনাদের কাছ থেকে কি আমাকে সার্টিফিকেট নিতে হবে যে আমি কতটা হিন্দু? জালিয়াতি করবেন না।
যারা মানুষের কথা বলেন না, তাদের জন্য আমার ধিক্কার ছাড়া কিছুই নেই।”
এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন “মানুষের জীবনে মানবিকতা হলো সবচেয়ে বড়।
এই বিধানসভা সকলের। বাংলা একদিন ভারতের রাজধানী ছিল। এই ভারতকে তাচ্ছিল্য করবেন না। দেশকে টুকরো করার চেষ্টা করবেন না। এটা আমরা মানবো না।”
