রাতে ট্রেনের গতি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, যা অনেক যাত্রী লক্ষ্য করেছেন। দিনের তুলনায় রাতে ট্রেন দ্রুত চলার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। রেলওয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো রেলপথে কম ট্রাফিক। দিনে একাধিক প্যাসেঞ্জার ট্রেন, মালগাড়ি এবং লোকাল ট্রেন চলাচল করায় প্রধান ট্রেনগুলোর গতিতে বাধা সৃষ্টি হয়। কিন্তু রাতে এই ট্রেন চলাচল কমে যায়, ফলে এক্সপ্রেস এবং সুপারফাস্ট ট্রেনগুলি বাধাহীনভাবে দ্রুত গতিতে চলতে পারে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দিনে যাত্রীদের ওঠানামা এবং ট্রেন থামানোর জন্য একাধিক স্টেশনে ট্রেনগুলিকে অপেক্ষা করতে হয়। পাশাপাশি মালগাড়ি এবং অন্যান্য ট্রেনগুলির চলাচলের কারণে এক্সপ্রেস ট্রেনগুলির গতিও অনেক সময় কমিয়ে দিতে হয়। কিন্তু রাতে এই সমস্যা থাকে না। কারণ, বেশিরভাগ প্যাসেঞ্জার ট্রেন এবং মালগাড়ি দিনের বেলায়ই চলাচল করে। রাতের বেলায় রেললাইন তুলনামূলকভাবে ফাঁকা থাকায় ট্রেনগুলি নিরবিচারে চলার সুযোগ পায়।
রাতে ট্রেন দ্রুত চলার আরেকটি কারণ হলো সিগনালিং সিস্টেম এবং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের চাপ কম থাকা। দিনের বেলায় বিভিন্ন ট্রেনের জন্য রেলওয়ে সিগনাল ব্যস্ত থাকে, ফলে ট্রেনগুলিকে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু রাতে সিগনালিং সিস্টেম সহজলভ্য থাকায় ট্রেন চলাচল আরও মসৃণ হয়। এছাড়া প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের চাপও কম থাকে, ফলে ট্রেন থামানোর প্রয়োজন কমে যায় এবং দ্রুত চলার সুবিধা পায়।
রাতের বেলায় আবহাওয়ার অবস্থাও ট্রেনের গতি বাড়ানোর পক্ষে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ট্রেনের ইঞ্জিন তুলনামূলকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেয় এবং রেল লাইনের ঘর্ষণও কম হয়। ফলে ট্রেন দ্রুত গতিতে ছুটতে পারে। এছাড়া, ট্রেন চালকদের জন্য রাতের ট্রাফিক কম থাকায় ট্র্যাক পরিষ্কার থাকে, যা তাদের দ্রুত গতিতে ট্রেন চালানোর আত্মবিশ্বাস জোগায়।
রাতের ট্রেন যাত্রায় নিরাপত্তার বিষয়টিকেও রেল কর্তৃপক্ষ সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে কুয়াশা বা খারাপ আবহাওয়ার সময় ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। তবে রাতের ট্রেনগুলিকে উচ্চ গতিতে চালানোর আগে ট্র্যাকের অবস্থা, আবহাওয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করে তবেই চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, রাতের ট্রেনগুলিতে যাত্রীসংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম থাকে। ফলে স্টেশনে থামা এবং যাত্রী ওঠানামার ঝামেলা কম থাকে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতের ট্রেনগুলি সাধারণত দূরপাল্লার হয়ে থাকে এবং এগুলিকে সুপারফাস্ট বা এক্সপ্রেস ট্রেনের মর্যাদা দেওয়া হয়। তাই এগুলির গতিও বেশি থাকে।
রাতে ট্রেন দ্রুত চলার এই কারণগুলি যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক। যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ পান। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সবসময় যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করে। রাতের ট্রেনগুলিকে উচ্চ গতিতে চালানোর আগে ট্র্যাকের অবস্থা এবং সিগনালিং ব্যবস্থার উপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়, যাতে যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ এবং আরামদায়ক হয়।
