বারুইপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সভা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এবং তা নিয়ে বিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকার নিজের নিরপেক্ষতার অবস্থান থেকে সরে এসে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছেন। এই অভিযোগকে সামনে রেখে বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিধানসভার স্পিকার সংবিধান মেনে নিরপেক্ষতার অবস্থান নেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তিনি তৃণমূলের পক্ষাবলম্বন করছেন। বিরোধীদের কথা তিনি শুনছেন না এবং নিয়ম মেনে চলছেন না। স্পিকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাবো এবং সাংবিধানিক উপায়ে এর সুরাহা চাইবো।” শুভেন্দুর এই বক্তব্যের পর বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে উত্সাহ দেখা যায়। উপস্থিত নেতা-কর্মীরা স্পিকারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এই সভার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিধানসভার স্পিকার তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন। বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই অভিযোগ করছে। শুভেন্দুর অভিযোগের মধ্যে কোনো বাস্তবতা নেই। জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানোর জন্য বিজেপি এই পথ নিয়েছে।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে শুভেন্দুর অভিযোগের বিরোধিতা করতে পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করারও ঘোষণা করা হয়েছে।
শুভেন্দুর সভা ঘিরে বারুইপুরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সভার দিন বারুইপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। বিজেপির দাবি, স্পিকারের ভূমিকার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শুভেন্দু বলেন, “আমরা বিধানসভার স্পিকারের ভূমিকার স্বচ্ছ তদন্ত চাই। প্রয়োজন হলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হবো।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ আসন্ন নির্বাচনের আগে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিজেপি এই ইস্যুকে সামনে রেখে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, তৃণমূলও এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। উভয় দল নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলেই মনে করছে বিরোধী শিবির। স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে এই অভিযোগ সরাসরি বিধানসভার কার্যপ্রণালীর উপর প্রভাব ফেলবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে এই ঘটনা যে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে বড় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তা স্পষ্ট।
