উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে, যা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর তাঁর অসুস্থ মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
মেয়ের মৃত্যুর পর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন কাউন্সিলর। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও কোনো অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যায়নি। কোথাও অ্যাম্বুল্যান্স উপলব্ধ ছিল না, আবার কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত টোটোতেই মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন তিনি।
এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামীণ এলাকায় জরুরি পরিষেবার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার তীব্র সংকট দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে পরিষেবা না পাওয়ায় একাধিকবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসক দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতির জন্য সরকারই দায়ী। বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, গ্রামীণ এলাকায় পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নেই। অনেক সময় অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে স্বীকার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা উন্নত করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। সরকারের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও একবার স্পষ্ট করল। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও অবিলম্বে সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন। সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, সেদিকে নজর রাখছে গোটা রাজ্য।
