বাংলাদেশ জুড়ে নিষিদ্ধ করার দাবির মধ্যেই এবার প্রকাশ্যে মিছিল করল আওয়ামী লীগ।সঙ্গে ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি মিছিলও।শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এই মিছিল থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক তিনজন হলেন যুব মহিলা লীগের সদস্য মোছা. লাবনী (২৮), আওয়ামী লীগের কর্মী মো. সিরাজুল (৩৫) ও ছাত্রলীগের কর্মী মো. রাজু (২৮)। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।প্রথম আলো এই খবর প্রকাশ করেছে।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশে হাসিনা পর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।ওই দলের রাজনীতি করার অধিকারটাই কেড়ে নেওয়ার দাবি তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।তবে বার বার দাবি উঠলেও অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।গত বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এই কথা বলেন তিনি।
এদিকে আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার এমন বার্তার পরেই উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) আওয়ামিকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণার দাবি তুলেছে। শুক্রবার প্রেস মিট করে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের সাত মাস কেটে গেলেও গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের খুনিদের বিচারে চোখে দেখা যায় এমন কোনও অগ্রগতি হয়নি।তাঁর অভিযোগ আওয়ামী লীগ কোনো গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল নয়; বরং এটি একটি ফ্যাসিবাদী দল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেশকিছু পড়ুয়া আওয়ামিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে মিছিল করে। শুক্রবার দুপুরে কয়েকটি দল ও সংগঠন আওয়ামিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভও করেছে। মিছিল করে ‘নিষিদ্ধ’ হিজবুত তাহরীরও। একই দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ করে ইনকিলাব মঞ্চ। তাদের মিছিল থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা করা হয়।
এমন এক কোণঠাসা পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের হঠাৎ এই মিছিল ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে একটি মিছিল বের হয়। তাতে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪০-৫০ নেতা ও কর্মী ছিলেন। মিছিলকারীরা স্থানীয় ছাত্র–জনতার বাধার মুখে পড়েন। ছাত্র–জনতা তাদেরকে তাড়া করে তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে কেন মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিলো, সেই বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ হচ্ছে।
তবে হাসিনার আওয়ামী লীগের বিরোধীতায় যখন উত্তাল বাংলাদেশ তখন এর মধ্যে অন্য সুর শোনা গেছে চরম বিরোধী বলে পরিচিত খালেদা জিয়ার দল বিএনপি–র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজ়ভির গলায়।তিনি জানান আওয়ামির নেতৃত্বে যে আসবে, সে যদি ছাত্র হত্যা, টাকা পাচার না–করে, তা হলে সেই আওয়ামি লিগ কেন রাজনীতি করতে পারবে না?’আর এইখানেই এনসিপি–র মত দল দাবি করেছে যে বাংলাদেশে কেউ কেউ ‘রিফাইন্ড আওয়ামি লিগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা চালাচ্ছে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
