সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আগামী আর্থিক বছরে রাজ্যের গ্রামীণ রাস্তায় বিপ্লব আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছর শেষের আগেই গ্রাম বাংলায় ১২ হাজার ১২৮ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হবে। পথশ্রী ৩ প্রকল্পের আওতাভুক্ত এই গ্রামীন রাস্তা তৈরীর কাজে ৩৮২৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে যার পুরোটাই বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। গত ফেব্রুয়ারি মাস শেষের আগেই রাজ্যে ১০ হাজার ১০২ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে পথশ্রী ৩ প্রকল্পের মাধ্যমে। নানা সরকারি জটিলতা ও রাজনৈতিক টানাপোড়নের জেরে বিভিন্ন গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ প্রায় বন্ধ। রাজ্যের কোষাগারও বাড়বাড়ন্ত। তার উপরে শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। বারংবার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুফল মেলেনি। তবুও গ্রাম বাংলার উন্নয়নকে পাখির চোখ করতে চায় রাজ্য সরকার। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের এই তৎপরতা বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন ” ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের গ্রাম উন্নয়ন খাতে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কেন্দ্র এ ধরনের কাজ করছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনতে পথশ্রী ৩ প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য। তাই সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের বরাদ্দ করা ৩৮২৮ কোটি টাকার বাকি কাজ আগামী আর্থিক বছর শেষের আগেই সম্পূর্ণ করা হবে।” ইতিমধ্যেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের মাধ্যমে এবং দুয়ারে সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পথশ্রী ৩ প্রকল্পের বাকি, গ্রামীণ রাস্তা গুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত রাস্তা গুলি তৈরীর কাজ শুরু হবে বলেও জানিয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে পথশ্রী ১ এবং পথশ্রী ২ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই রাজ্যে যথাক্রমে ১৪ হাজার ৪১৬ কিলোমিটার এবং ১২ হাজার ৯৩৬ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। পথশ্রী ৩ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে গ্রামবাংলায় মোট ৩৯ হাজার ৪৮০ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হবে।
যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “শহর বা মফস্বলের ভোটে তৃণমূল আস্থা হারিয়েছে। তাই ২৬ এর বই তরুণী পার করতে গ্রামবাংলায় ভরসা মনে করছে তৃণমূল। সে কারণেই তড়িঘড়ি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও গ্রাম বাংলার মানুষ সব বোঝেন সব জানেন। এই চালাকির মাধ্যমে মমতা রাজনৈতিক ফললাভ হবে না।”
পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরে আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গ্রামীণ রাস্তার পরিকাঠামো উন্নয়ন বা নতুন করে বহু জায়গায় রাস্তা তৈরীর উদ্যোগ বেশ কিছুদিন আগেই নেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফ থেকে। কিন্তু নানা রাজনৈতিক জটিলতায় নির্বাচনী আচরণ বিধি অথবা দফায় দফায় নির্বাচন বা উপনির্বাচনের জেরে বারবার এই কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। তার ওপর কেন্দ্রীয় রাজ্য রাজনৈতিক সম্পর্ক বা টানা পড়ে নেই যে রে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ না মেলায় প্রকল্পের কাজ বেশ কিছুদিন থমকে যায়। এর ফলে গ্রামীণ মানুষের দুরবস্থা যেমন বেড়েছে তেমনি গ্রামীণ শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রেও বড় অন্তরায় তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বহু অভাব অভিযোগ আবেদন যেমন পাওয়া গেছে তেমনি দুয়ারে সরকার প্রকল্পেও এ বিষয়ে স্থানীয় মানুষজন বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এই সামগ্রিক বিষয়কে মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরকে পথশ্রীর ৩ প্রকল্পের বকেয়া কাজ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন। কিন্তু অর্থের যোগান হবে কোথা থেকে? মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশেই রাজ্য অর্থ দপ্তরের অনুমদনক্রমে পথশ্রী ৩ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে এই গ্রাম বাংলার রাস্তা তৈরির জন্য ৩৮২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তর। আগামী আর্থিক বছর শেষের আগেই এই কাজ সম্পূর্ণ হলে শুধু গ্রাম বাংলার জন্যই নয় গোটা পশ্চিমবঙ্গের আর্থ সামাজিক মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
