সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
২৬ শে নির্বাচনের আগেই বিরোধী শূন্য হল উত্তর দমদম পুরসভা। উত্তর দমদম পুরসভার একমাত্র বিরোধী মুখ ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআইএম কাউন্সিলর সন্ধ্যা রানী মন্ডল আজ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। এই দলবদলের জেরে ৩৪ ওয়ার্ডের উত্তর দমদম পুরসভায় এখন ৩৪ জন কাউন্সিলারই হল তৃণমূলের। আজ উত্তর দমদম পুরসভা এলাকায় রাজ্যের অর্থ দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা উত্তর দমদম বিধানসভার বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত থেকে পতাকা নিয়ে সন্ধ্যারানি মণ্ডল তৃণমূলে যোগদান করেন। আর উত্তর দমদম পুরসভায় সিপিআইএমের একমাত্র পুরো প্রতিনিধি শাসক দলে যোগ দেওয়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাজিয়া। সিপিআইএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক পলাশ দাস জানিয়েছেন,” বেশ কিছুদিন ধরেই এই দলবদল নিয়ে জল্পনা চলছিল। যেখানে শাসক দলের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে ওয়ার্ড কমিটির বিভিন্ন নেতা নেত্রীরা কাজ করছিলেন সেখানে ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সন্ধ্যারানি মন্ডল তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জঘন্য কাজ করলেন।” যদিও দলবদ্ধু সন্ধ্যারানি দাবি করেছেন” উন্নয়নের স্বার্থে এবং উন্নয়নের কাজকে প্রাধান্য দিতেই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।” কারণ হিসেবে সন্ধ্যারানীর ব্যাখ্যা, উন্নয়নের কাজ করতে গিয়ে তিনি তার পুরনো দলের মধ্যেই বাধা পেয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন উন্নয়নের কাজে স্থানীয় ঠিকাদারদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কাজের আগ্রহেই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। যদিও দলত্যাগী কাউন্সিলরের এই বক্তব্য মানতে নারাজ সিপিআইএম জেলা সম্পাদক পলাশ দাস। পলাশ বাবুর পাল্টা যুক্তি,” পুরো প্রতিনিধি এককভাবে কোন উন্নয়নের কাজের সিদ্ধান্ত নেয় না। ওয়ার্ড কমিটির সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।” তিনি যদি এতই নীতি নিষ্ঠ হন তাহলে কাউন্সিলার পদে পদত্যাগ করেই তৃণমূলে যোগ দিতে পারতেন পাল্টা যুক্তি পলাশ দাসের। যদিও বাম নেতৃত্ব যাই বলুন উত্তর দমদম পুরসভার তৃণমূল পুরো প্রধান বিধান বিশ্বাস জানিয়েছেন, ” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উদ্যোগে উত্তর দমদম এলাকায় জন উন্নয়নের কাজ করতে আগ্রহী হয়েই ওই পুর প্রতিনিধি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। নেতৃত্বও তাকে তৃণমূলে যোগদানে সম্মতি দিয়েছে।” রাজনৈতিক বাদানুবাদ যাই হোক না কেন মোটের উপর ২৬ শে নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তর দমদম এলাকায় বামপন্থীদের দৈন্যতা যে আরও প্রকট হল এই দলবদল তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।
