তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের এরদোয়ানের বিপক্ষ দলের নেতা ইমামোগলুকে কারাগারেই যেতে হল।কদিন আগেই গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি।একরেম ইমামোগলু তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি সিএইচপির নেতা এবং ইস্তানবুলের বর্তমান মেয়র৷ গত ১৯ মার্চ তাকে আটক করা হয়৷ একইসময়ে ইমামোগলুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বা যোগাযোগ আছে এমন আরও প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়৷
কেন তাঁকে আটক করা হয়? ইমামোগলুর বিরুদ্ধে পৌর চুক্তি সংক্রান্ত দুর্নীতি, চাঁদাতোলা, ঘুস ও অর্থ পাচার ছাড়াও সন্ত্রাসবাদে সমর্থন জোগানোর অভিযোগ আনা হয়েছে৷ কুর্দি জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ দায়ের হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ইমামোগলুর ৩৫ বছর পর্যন্ত কারাবাস হতে পারে৷
এদিকে ইমামোগলুর আটক ও গ্রেফতার হওয়ার জেরে প্রতিবাদে-বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে তুরস্ক। গ্রেফতারির বিরোধিতায় টানা তিন রাত ধরে প্রতিবাদ চলে ইস্তানবুলে।গত শুক্রবারের জমায়েতে যোগ দিয়েছিলেন প্রায় তিন লক্ষ মানুষ, এমনটাই দাবি বিরোধীদের। শনিবার ইমামোগলুকে আদালতে হাজির করানো হয়।পাঁচ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর, আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার শহরের একটি আদালতে স্থানান্তরিত করা হয়।
বিরোধীরা ইমামোগলুর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে। দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কের রক্ষণশীল রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে রিপাবলিকান পিপলস পার্টির একরেম ইমামোগলুকে।২০১৯ সালে প্রথমবার ইস্তানবুলের মেয়র নির্বাচিত হন, যা এরদোয়ানের দলের জন্য বড় পরাজয় ছিল।ইস্তানবুল তুরস্কের বৃহত্তম শহর এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এই শহর দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একে পার্টি ও তার পূর্বসূরি ইসলামপন্থি দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইমামোগলুর এই বিজয় এরদোয়ানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হয়। ২০২৪ সালে তিনি বড় ব্যবধানে আবার মেয়র নির্বাচিত হন।
২২ বছর ধরে তুরস্কের ক্ষমতার শীর্ষে রয়েছেন এরদোয়ান। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি উভয় পদেই দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মেয়াদের বাধ্যবাধকতার কারণে, সংবিধান পরিবর্তন না করলে তিনি ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। ইমামোগলুকে আগামী নির্বাচনের জন্য সিএইচপির আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে কয়েক দিনের মধ্যেই মনোনীত করার কথা। তার মধ্যেই এই পদক্ষেপকে ভালভাবে নিচ্ছে না বিরোধী রাজনৈতিক মহল। যাতে তাকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা যায় সেইজন্যেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা মামলা সাহানো হয়েছে।
তবে অনড় রয়েছেন ইমামোগলু৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা কঠিন নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছি৷ কিন্তু আমি হার মানব না৷ আমি নিজেকে আমার জাতির কাছে সমর্পণ করছি৷” পাশাপাশি ইমামোগলুর দল সিএইচপি তাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে৷ নাগরিকদের ইমামোলুর প্রতি সমর্থন দেখানোর জন্য তুরস্ক জুড়ে প্রতীকী ‘সংহতি বাক্স’ রাখা হয়েছে৷ ব্যালটের মতো সেখানে জনগণ তাদের এই নেতার প্রতি সমর্থন জানাতে পারবেন৷
Leave a comment
Leave a comment
