সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ছেলেকে ধরতে গিয়ে মারধরের জেরে মা-কে মেরে ফেলে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ। ঘটনার চিত্রনাট্য পরিবর্তনেরও অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। সরকারপক্ষ ঘটনার কথা অস্বীকার করলেও পুলিশকেই পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।
কোচবিহারের হরিণচওড়া এলাকায় এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় নির্দেশ বিচারপতি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের। আগামী বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে পুলিশ। সেই দিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
সোমবার শুনানি চলাকালীন রাজ্যের উদ্দেশ্যে বিচারপতির মন্তব্য, “মহিলার মৃত্যু যে কারণেই হোক, এফআইআর রুজু করে তদন্ত করা দরকার পুলিশের।” বিচারপতির পর্যবেক্ষণ “স্বাভাবিক কারণেই হোক বা পুলিশের অত্যাচারে হোক বা অন্য দলের সঙ্গে ঝামেলায় হোক, ঘটনার প্রয়োজনীয় তদন্ত করতে হবে।”
ছেলেকে ধরতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে কোতয়ালী থানার পুলিশ। মারধরের ফলে মৃত্যু হয় অভিযুক্ত আমজাদ আলির মা আম্বিয়া বিবির। পরিবারের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান যে, গত ১৮ জানুয়ারি মধ্যরাতে প্রায় ২০-২২ জন পুলিশের দল হানা দেয় আমজাদ আলির বাড়িতে। বাড়ির সব পুরুষদের কোনও কারণ ছাড়াই গ্রেফতার করলে বিরোধিতা করেন আম্বিয়া বিবি। আইনজীবীর অভিযোগ, পুলিশ মারধর করে আম্বিয়া বিবিকেও। তাঁর মাথায় আঘাত লাগলে মৃত্যু হয় আম্বিয়া বিবির। আইনজীবী শামিমের আরও অভিযোগ, ঘটনার তথ্যপ্রমাণ পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে পুলিশ এবং পরিবারকে ভয় দেখানো হচ্ছে। পরিবারের আবেদন পুলিশি অত্যাচারের নিরপেক্ষ তদন্ত করার ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিক কোর্ট।
সোমবার রাজ্যের তরফে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় আদালতে। রিপোর্ট দেখে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মৃতার শরীরে আঘাতের চিহ্নের বিশ্লেষণ চান রাজ্যের থেকে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে ক্ষতচিহ্ন সব টাটকা, কোন আঘাতের প্রতিক্রিয়া।” রাজ্যের আইনজীবী পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। আইনজীবীর দাবি অভিযুক্ত আমজাদকে ধরতে গিয়েছিল পুলিশ। কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি তবে আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আম্বিয়া বিবির। সরকারি আইনজীবীর আরও দাবি সম্প্রতি অন্য বাসিন্দাদের সথে বচসা হয় অভিযুক্তের পরিবারের। তখন হাতাহাতিও হয়। সেই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন আম্বিয়া বিবি। এরপরই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে আগামী শুনানির দিন রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
