সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার সাংসদদের বেতন, দৈনিক ভাতা এবং পেনশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংসদদের মাসিক বেতন ₹২৪,০০০ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ₹১,২৪,০০০। এছাড়া দৈনিক ভাতাও ₹২,০০০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবসরকালীন পেনশনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, সাংসদদের দায়িত্ব ও কাজের চাপ বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাংসদরা মাসিক ₹১,২৪,০০০ বেতন পাবেন, যা আগে ছিল ₹১,০০,০০০। এছাড়া দৈনিক ভাতা ₹২,০০০ করা হয়েছে। অবসর গ্রহণের পর সাংসদদের পেনশনও বাড়িয়ে ₹৫০,০০০ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ₹২৫,০০০। এই সিদ্ধান্ত ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এবং এরিয়ার হিসাবেও বেতন পরিশোধ করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, সাংসদদের দায়িত্ব এবং কাজের চাপ বেড়েছে। এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। তাই সাংসদদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজনীয় ছিল। সরকার দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত সাংসদদের কাজের প্রতি আরও দায়বদ্ধ করে তুলবে এবং ভালো কর্মদক্ষতা আনবে।
তবে বিরোধী দল এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। বিরোধীদের মতে, সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকট ও বেকারত্বের মধ্যে সাংসদদের বেতন ও ভাতা বাড়ানো অযৌক্তিক এবং অনৈতিক। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যখন চাপে রয়েছে, তখন এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া একেবারেই অনুচিত। বিরোধীরা এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিও জানিয়েছে।
অন্যদিকে সরকারের দাবি, সাংসদদের বেতন বৃদ্ধি করা হলে তারা আরও দায়িত্বশীল হবেন এবং পারফরম্যান্সে উন্নতি ঘটবে। সরকারের মতে, উন্নত দেশগুলির সাংসদদের তুলনায় ভারতের সাংসদদের বেতন অনেক কম ছিল। তাই সাংসদদের কাজের চাপ এবং দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংসদদের বেতন বৃদ্ধি দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে সরকার বলছে এটি সাংসদদের কর্মদক্ষতা ও দায়বদ্ধতা বাড়াবে, অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে এটি সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকটকে অবহেলা করার সমান। এই সিদ্ধান্তে জনমত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দেশের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিচার করে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
অন্যদিকে সাংসদদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত স্বাগত জানানো হয়েছে। অনেক সাংসদ জানিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধি তাদের কাজের প্রতি আরও মনোযোগী করবে এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সরকার মনে করছে, এই পদক্ষেপ সাংসদদের পারফরম্যান্স এবং কাজের মান উন্নত করবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের বার্ষিক ব্যয়ে বড় রকমের পরিবর্তন আসবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বেতন, ভাতা এবং পেনশন বৃদ্ধির ফলে বছরে অতিরিক্ত কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে সরকারের দাবি, এই ব্যয় সাংসদদের কাজের মান ও দক্ষতা বাড়ানোর বিনিময়ে প্রয়োজনীয়।
সংক্ষেপে বলা যায়, সাংসদদের বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি একদিকে সাংসদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত সাংসদদের পারফরম্যান্সে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়।
