অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। সরাসরি রেলপথে এবার পৌঁছানো যাবে সারদা মায়ের জন্মস্থান জয়রামবাটি। রেলের লাইন পাতা হয়ে গিয়েছে, স্টেশন নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবার আর বিষ্ণুপুর হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে না পূণ্যার্থীদের। সরাসরি ট্রেনে জয়রামবাটিতে পৌঁছে যাবে ভক্তরা।
রেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেলপথের পরিকল্পনা করেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০০-২০০১ অর্থবর্ষে। এরপর ২০০২-২০০৩ সালে প্রকল্পের সমীক্ষা শুরু হয় এবং জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পূর্ণ হয় ২০০৬-২০০৭ সালে। রেল লাইন পাতার কাজ শুরু হয় ২০০৮-২০০৯ সালে। ২০১০ সালে বিষ্ণুপুর থেকে গোকুলনগর পর্যন্ত প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর ২০১২ সালে ময়নাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয় রেল যোগাযোগ।
তবে দীর্ঘদিন ধরে ভাবাদিঘিতে সমস্যার কারণে এবং রেলের দীর্ঘসূত্রিতার ফলে কাজ শ্লথ হয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি বড় গোপীনাথপুর হয়ে জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। জয়রামবাটি স্টেশনকে মাতৃমন্দিরের আদলে সাজানো হয়েছে, যা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জয়রামবাটি মাতৃমন্দির কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই রেল যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত খুশি। তাঁদের মতে, সারা বছর দেশ-বিদেশের বহু পূণ্যার্থী এখানে আসেন। এতদিন রেল যোগাযোগের অভাবে ভক্তদের নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হত। এখন সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।
এলাকার ব্যবসায়িক উন্নতি, পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, এই রেল সংযোগ জয়রামবাটিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নতিতে সহায়ক হবে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, কিছু ছোটখাটো কাজ সম্পূর্ণ করলেই শীঘ্রই জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। নতুন রেলপথের উদ্বোধনের অপেক্ষায় এখন জয়রামবাটির প্রতিটি মানুষ।
