জুলাই আন্দোলন ও তার পরবর্তী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত কয়েক মাসে অনেক বদলে গেছে পড়শি দেশ বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে সামাজিক পরিস্থিতি।কোনও নির্বাচিত সরকারের বদলে সেখানে সরকার চালাচ্ছেন অন্তঃবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস।সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার, নারী নির্যাতনের পাশাপাশি প্রকাশ্যেই বেড়ে গেছে ভারত বিরোধীতা।দিল্লিকে দূরে সরিয়ে চিন এবং পাক সরকারের সঙ্গে সখ্যতা বাড়িয়ে চলেছে মহম্মদ ইউনুস প্রশাসন।কিন্তু সেসব মনে না রেখে বুধবার ইউনুস চিন সফরে যাওয়ার আগেই পড়শি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দিবসে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস।১৯৭১ সালের এমন দিনেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।মোদী নিজের বার্তায় লেখেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।এই দিনটি আমাদের ভাগ করা ইতিহাস এবং ত্যাগের প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দুদেশের সম্পর্কের পথপ্রদর্শক হিসেবে অব্যাহত থাকবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি বিকশিত হয়েছে এবং দুদেশের জনগণের জন্য সত্যিকারের কল্যাণ বয়ে এনেছে।
শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নন,বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের উদ্দেশ্যে একটি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু। বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় দিবস উপলক্ষে ভারত সরকার, জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের জিরো লাইনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে বা বিএসএফকে মিষ্টি পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।এ সময় বিএসএফের সদস্যরা বিজিবিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
প্রসঙ্গত এপ্রিলের একেবারে প্রথমেই থাইল্যান্ডে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী মোদী থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে ২ থেকে ৪ এপ্রিল বিমস্টেক (দ্য বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন। সেই সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস একান্ত সাক্ষাৎকার করতে চাওয়ার কথা জানিয়েছেন।এই বিষয়ে ঢাকার তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে দিল্লিকে।সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশ বিষয়ক সংসদীয় পরামর্শদাতা কমিটির বৈঠকে জয়শংকর বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বৈঠকের অনুরোধ বিবেচনাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মহম্মদ ইউনুস উন্নতির জন্য কাছের দেশগুলোর মধ্যে যৌথ অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা জানান। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান—দক্ষিণ এশিয়ার এই চারটি দেশ মিলে একটি যৌথ অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারলে চার দেশই লাভবান হবে বলে ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা জানান বাংলাদেশের পণ্য নেপালে যাবে, ভুটানে যাবে, ভারতের সেভেন সিস্টার্সে যাবে। প্রতিবেশীদের পণ্য আমাদের এখানে আসবে, সারা পৃথিবীর কাছে পৌঁছে যাবে, এভাবেই এটি একটি লাভজনক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে।
Leave a comment
Leave a comment
