কলমে সুচিত্ত চৌধুরী
কিছু মানুষ মনে করেন, শিক্ষার্থীদের পুরো মনোযোগ পড়াশোনায় থাকা উচিত এবং খেলাধুলা শুধুমাত্র সময়ের অপচয়। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলার সঠিক সমন্বয়ই একজন শিশুর সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সহায়ক।
আসলে, শুধুমাত্র বই মুখস্থ করে ভালো ফল করা যথেষ্ট নয়। বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শরীরকে সচল রাখে, একাগ্রতা বাড়ায় এবং চাপ কমাতে সাহায্য করে। গবেষণা বলছে, নিয়মিত শারীরিক কসরত ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করলে শিক্ষার্থীদের স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ বাড়ে, যা পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শুধু একাডেমিক পারফরম্যান্সের দিক থেকে নয়, খেলাধুলার মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণ, দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে। ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল বা যেকোনো ক্রীড়া কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা তৈরি করে। ফলে তারা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা অর্জন করতে পারে, যা ভবিষ্যতে কর্মজীবনেও সহায়ক হয়।
বর্তমানে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করেছে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, তারা পড়াশোনাতেও তুলনামূলক ভালো ফল করে। তাই, একমাত্র বইয়ের পাতা নয়, শারীরিক চর্চাও একজন শিক্ষার্থীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে, এই বিষয়েও সতর্কতা দরকার। অতিরিক্ত খেলার প্রতি আসক্তি পড়াশোনায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক শিক্ষার্থী খেলার প্রতি এতটাই আগ্রহী হয়ে ওঠে যে একাডেমিক পড়াশোনায় ফোকাস হারায়। তাই, পড়াশোনা ও খেলাধুলার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, সময়ের যথাযথ ব্যবস্থাপনা থাকলে শিক্ষার্থীরা দুটো ক্ষেত্রেই সফল হতে পারে।
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব সম্পর্কে আপনার মত কী? শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষার উপর জোর দেওয়া উচিত, নাকি খেলাধুলাকেও পড়াশোনার সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন?
