খাবার খাওয়ানোর নাম করে প্রলোভনের জালে ফেলে দুই নাবালিকার শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে এক প্রৌঢ়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে রাজগঞ্জের একটি গ্রামে, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিগৃহীতদের পরিবার।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ দুই নাবালিকা তাদের বাড়ির সামনে খেলছিল। সেই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি, যাকে এলাকার সবাই চেনেন, তাদের খাবার খাওয়ানোর অছিলায় নিজের ঘরে নিয়ে যায়। ঘরের দরজা বন্ধ করে, তাদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। কিছুক্ষণ পরেই বাড়ির লোকজন নাবালিকাদের খোঁজ শুরু করেন এবং অভিযুক্তের ঘর থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে দেখেন।
প্রথমে কিছু না বললেও, বাড়ির বড়দের জিজ্ঞাসাবাদে দুই নাবালিকা পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়। এরপরই তাদের পরিবার স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়।
নিগৃহীতাদের পরিবারের এক সদস্য জানান, “আমি কাজে গিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে এসে দেখি বাচ্চাগুলো কাঁদছে। পরে সবটা জানার পর থানায় অভিযোগ করি। এর আগেও একটি মেয়ের সঙ্গে এরকম করেছে সে। এবার একসঙ্গে দুটো বাচ্চার সঙ্গে এই জঘন্য কাজ করল।”
এলাকার বাসিন্দারা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন এবং শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয় থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি। ঘটনার তদন্ত চলছে। নাবালিকাদের মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে এবং মানসিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার পর অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। শিশুদের উপর এই ধরনের অপরাধ রুখতে সমাজের সকলে একযোগে সচেতন হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
