অতি দ্রুত এগিয়ে চলেছে ভারতের অর্থনীতি।এই মুহূর্তে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে ভারত।আর এই অগ্রগতির হার চমকে দিচ্ছে বিশ্বের যেকোনও দেশের বৃদ্ধিকে। মাত্র ১০ বছরে ভারতের জিডিপি দ্বিগুণ হয়ে পৌঁছে গেছে ৪.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে, গোটা বিশ্বকে পেছনে ফেলে ১০৫% বৃদ্ধি হয়েছে ভারতের অর্থনীতির।এমনকি জি৭, জি২০ এবং ব্রিক্সভুক্ত সব দেশকে ছাড়িয়ে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করে ফেলেছ ভারত।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এক দশক ধরে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে চলা প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
আইএমএফ-এর তথ্য বছে বর্তমানে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, অথচ ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসে নরেন্দ্র মোদী সরকার। তারপর থেকে ভারত তার অর্থনীতির আকার জিডিপির হিসেবে দ্বিগুণ করে ফেলেছে।ভারত এখন জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে। বর্তমানে জাপানের জিডিপি ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ভারত ২০২৫ সালের তৃতীয় কোয়ার্টারে মধ্যে এই সংখ্যা অতিক্রম করে যেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। আর হিসেব বলছে যদি এই গতিবেগ বজায় থাকে, তাহলে ২০২৭ সালের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভারত জার্মানিকেও (বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি) ছাড়িয়ে যাবে। জার্মানির বর্তমান জিডিপি ৪.৯ ট্রিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পিযুষ গোয়েল ভারতের এই ১০ বছরের অর্থনৈতিক সাফল্যকে ‘অসাধারণ’ আখ্যা দিয়েছেন এবং এক দশকে জিডিপি দ্বিগুণ করার জন্য দেশের প্রশংসা করেছেন। গোয়েল উল্লেখ করেছেন যে, ১০ বছরে ১০৫% বৃদ্ধি হার নিয়ে শীর্ষে থাকা ভারত চিন (৭৬%), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৬৬%), জার্মানি (৪৪%), ফ্রান্স (৩৮%) এবং যুক্তরাজ্য (২৮%)-এর মতো প্রধান অর্থনীতিগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি কারা?
এই মুহূর্তে বৃদ্ধির হারে ভারত সব দেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও অর্থনীতির আকারে এখনও শীর্ষ দুটি স্থান দখল করে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৩০.৩ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং চিন (১৯.৫ ট্রিলিয়ন ডলার)।বিশ্ব অর্থনীতির তৃতীয় স্থানে আছে জার্মানি (৪.৯ ট্রিলিয়ন ডলার), চতুর্থ স্থানে আছে জাপান (৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং পঞ্চম স্থানে ভারত (৪.৩ ট্রিলিয়ন ডলার)।অর্থনীতির পরিমাপের নিরিখে জাপানের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ভারত।
হিসেব বলছে বর্তমান বৃদ্ধির হার ধরে রাখতে পারলে শীর্ষ দুটি স্থানে পৌঁছতে ভারতের আরও দু- দশকের বেশি সময় লাগতে পারে।তবে উল্লেখযোগ্য বা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৩৬.২২ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনের জাতীয় ঋণ ২.৫২ ট্রিলিয়ন ডলার। সে তুলনায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের মোট ঋণ ৭১২ বিলিয়ন ডলার।
যেভাবে বৃদ্ধির গতিপথে এগোচ্ছে ভারত
২০০৭ সাল নাগাদ ভারতের জিডিপি প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে সময় লেগেছিল ৬০ বছর।২০১৪ সালে ১ ট্রিলিয়ন থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে সময় নিয়েছে ৭ বছর। কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও ২০২১ সালে ভারত ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলে। আর ৩ ট্রিলিয়ন থেকে ৪ ট্রিলিয়নে পৌঁছতে সময় লেগেছে মাত্র ৪ বছর। হিসেব বলছে এই গতিতে অগ্রসর হলে ভারত প্রতি ১.৫ বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে এবং ২০৩২ সালের শেষ নাগাদ ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
