স্নিগ্ধা চৌধুরী
কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক ঐতিহাসিক স্মারক কি এবার বিলীন হতে চলেছে? বাংলা সাহিত্য রেনেসাঁর পথিকৃৎ মাইকেল মধুসূদন দত্তের শেষ আশ্রয়, ২০বি কার্ল মার্ক্স সরণির সেই পুরনো দোতলা বাড়ি, এখন ধ্বংসের মুখে। পুরনো কলকাতার স্মৃতি আঁকড়ে ধরা এই বাড়িটি ভেঙে বহুতল গড়তে উদ্যোগী হয়েছে এক বেসরকারি সংস্থা। তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের হেরিটেজ সম্পদ রক্ষায় এবার তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে। তবে চ্যালেঞ্জ একটাই—পুরসভার কাছে কোনও নির্দিষ্ট নথি নেই, যা প্রমাণ করতে পারে যে এটি সত্যিই মাইকেল মধুসূদনের শেষ আশ্রয়স্থল। ১৮৭৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর বহু পরিবর্তন এসেছে কলকাতার প্রশাসনিক মানচিত্রে। বর্তমান ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড একসময় ছিল গার্ডেনরিচ পুরএলাকার অন্তর্ভুক্ত। কলকাতা পুরসভা গঠিত হয়েছে ১৮৭৬ সালে, অর্থাৎ মধুসূদনের মৃত্যুর তিন বছর পর। ফলে ঐতিহাসিক নথিপত্রের অভাবে এবার হেরিটেজ রক্ষার লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে।
এই প্রসঙ্গে ঐতিহাসিকরা বলছেন, নথি না থাকলেও স্থানীয় ইতিহাস ও জনশ্রুতির ভিত্তিতে বহু ঐতিহ্য সংরক্ষিত হয়েছে। মধুসূদনের মতো ব্যক্তিত্বের শেষ আশ্রয় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
ইতিমধ্যেই সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সাহিত্যপ্রেমীরা সোচ্চার হয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমেও উঠেছে প্রতিবাদের ঢেউ। কলকাতা পুরসভা এবার আদালতের শরণাপন্ন হয়ে এই বাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে।
তবে সময় ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। যদি দ্রুত কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে হয়তো কলকাতার বুক থেকে চিরতরে মুছে যাবে মাইকেল মধুসূদনের শেষ ঠিকানা। আর ইতিহাসের পাতায় রয়ে যাবে শুধুই স্মৃতিচিহ্নহীন এক গল্প!
