স্নিগ্ধা চৌধুরী
ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলা ঘিরে এবার সম্প্রীতির নজির গড়ল ঠাকুরবাড়ি। যেখানে গত বছর মেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল, এবার সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে একসঙ্গে মেলা পরিচালনা করছেন বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ও তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর।
এই ঐক্যের আবহেই বুধবার সন্ধ্যায় নজিরবিহীন ঘটনা দেখা গেল ঠাকুরবাড়িতে। বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার প্রবেশ করেই সোজা মমতাবালা ঠাকুরের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করলেন। যা দেখে হতবাক অনেকেই। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভুলে মতুয়া সম্প্রদায়ের ঐক্য বজায় রাখাই এখন সবার মূল লক্ষ্য বলে জানালেন তিনি।
অসীম সরকার বলেন, ভক্তরা চেয়েছিল মতুয়া পরিবার এক হোক। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকুক। মতুয়াদের ঐক্যই আসল।
অন্যদিকে, মমতাবালা ঠাকুর বলেন, সংসারে ভুল বোঝাবুঝি হয়। হরিচাঁদের দর্শন অনুযায়ী, নারী-পুরুষ সমান অধিকার পাবে। নারীশক্তির জয় হবেই।
মেলার আগে ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু ও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বড়মার ঘরে প্রণাম সেরে সুজিত বসু বলেন, ধর্ম আর রাজনীতি আলাদা বিষয়। এই মেলা মানুষের আবেগের, সকলের সম্প্রীতির প্রতীক।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক বারুণী মেলা। পুণ্যস্নানে মাতবেন লক্ষাধিক মতুয়া ভক্ত। তার আগে ঠাকুরবাড়ির ঐক্যের এই ছবি নিঃসন্দেহে বার্তা দিচ্ছে— রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে মতুয়াদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য!
