মুম্বইয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে যখন সাইফ আলি খানের বাসভবনে হামলার ঘটনা সামনে আসে। এই ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং তৃতীয় দিনেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় অভিনেতার বাড়ির আশপাশে। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হামলার পরদিন সকালে বাবার শারীরিক অবস্থা জানতে হাসপাতালে পৌঁছান সারা আলি খান।
ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনায় বলিউড মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, অনেকে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এতদিন তিনি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। অবশেষে এক সাক্ষাৎকারে মনের কথা খুলে বললেন এই অভিনেত্রী।
জানুয়ারির এই ঘটনা সারাকে জীবনের মূল্যায়ন করতে শিখিয়েছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। সারা বলেন, “ঘটনাটি আরও ভয়ঙ্কর দিকে যেতে পারত। কিন্তু সব শেষে ঠিক হয়ে গেছে, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। এটি আমাকে বুঝিয়েছে আমাদের অস্তিত্ব কতটা অমূল্য।”
আজকাল মানসিক শান্তি ও জীবনের তাৎপর্য নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু এমন ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় জীবনের গভীরতা। সারার ভাষায়, “যে লক্ষ্যগুলোর পেছনে আমরা দৌড়াই, সেগুলো কতটা ক্ষণস্থায়ী, তা এমন ঘটনায় প্রকাশ পায়। আমার ২৯ বছরের জীবনে বাবার প্রতি আমার গভীর স্নেহ কখনো কমেনি, একটি অদৃশ্য বন্ধন যা অটুট রয়েছে। তবুও এই সত্যটি মনে গেঁথে গেছে যে, একটি ক্ষণই সবকিছুকে তছনছ করে দিতে পারে।
তিনি আরও প্রকাশ করেন, “প্রতিটি দিনকে আমাদের উৎসাহের সঙ্গে উদযাপন করা উচিত, যেন প্রতিটি মুহূর্ত একটি আনন্দময় উৎসব। এই ঘটনা আমার কাছে জীবনের প্রকৃত অর্থ উন্মোচন করেছে, বেঁচে থাকার সারমর্মকে নতুনভাবে উপলব্ধি করিয়েছে।”এই অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে যে, জীবনের প্রতিটি দিন অমূল্য, এবং তা হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করতে হয়।
এক দুষ্কৃতকারী চুরি করার উদ্দেশ্যে সইফের বাড়িতে ঢোকে। সইফ তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। পরপর ছয়বার ছুরির আঘাতে সইফ রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, সইফের আঘাত গুরুতর হলেও তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুষ্কৃতকারীর সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। সইফের বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঘটনাটি ঘটে ১৬ জানুয়ারি।
