শেয়ার বাজারে বড়সড় বিপর্যয়! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ঘোষণায় ভারতের গাড়ি শিল্পের শেয়ারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে, টাটা মোটরসের শেয়ার মারাত্মকভাবে পড়ে গেছে, পাশাপাশি অন্যান্য গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলোর শেয়ারও দ্রুত নিচের দিকে নামছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমেরিকায় আমদানি করা গাড়ির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসবে, যা সরাসরি ভারতীয় গাড়ি সংস্থাগুলোর ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এবং বাজারের অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই ধাক্কার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব গাড়ি শিল্পের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ওভাল অফিসে বুধবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “এবার থেকে বিদেশি গাড়ি আমদানি করলে মোটা কর দিতে হবে। এই নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে, এবং এর ফলে আমেরিকার অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হলে তাদের কোষাগারে ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব আসবে। তবে, যদি কোনও বিদেশি সংস্থা আমেরিকার মাটিতে গাড়ি উৎপাদন করে, তাহলে তাদের জন্য শুল্কের বোঝা থাকবে না।
ট্রাম্প মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আমেরিকার নিজস্ব গাড়ি শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে আমদানি নির্ভর গাড়ির দাম বাড়বে এবং মার্কিন গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে।
এই ঘোষণার পর থেকেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে প্রবল অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হুন্ডাই-সহ বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা সংস্থার শেয়ার দ্রুত নিম্নমুখী হয়েছে, আর দিনশেষে টাটা মোটরসের শেয়ার ৪.৭৭ শতাংশ পতনের সঙ্গে বাজার বন্ধ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক নীতির ফলে আমেরিকায় দেশীয় গাড়ি সংস্থাগুলি, বিশেষ করে টেসলার মতো কোম্পানিগুলো লাভবান হতে পারে। অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইলন মাস্কের ব্যবসার সুবিধা হতে পারে এটি। তবে, ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত মাস্কের পরামর্শে নেওয়া হয়নি।
প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় গাড়ি শিল্পের ওপর এই শুল্কের প্রভাব কতদিন স্থায়ী হবে? বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, ভারতীয় সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে, যা অটোমোবাইল খাতে দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
