সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
কোন রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কোনও অনুষ্ঠান বা কর্মসূচি করা যাবে না। শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষাবিদদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা যাবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চের। প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণ, যদি পরিস্থিতির স্বাভাবিক না থাকে তাহলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কেন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা যেমন কাউকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দিতে পারে না তেমনি তল্লাশিও করতে পারে না। প্রয়োজনে সাদা পোশাকে স্পেশাল ফোর্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবহার করা যেতে পারে বলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য আদালতের। পড়ুয়ারা ছাড়া ক্যাম্পাসে এবং হস্টেলে কোনো বহিরাগত যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ কি ভাবছে তা তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে আদালতকে। প্রধান বিচারপতি
টি এস শিবজ্ঞানম এর মন্তব্য
“আজ যা পরিস্থিতি, সেই উদ্দেশ্য নিয়ে ৬৮ বছর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়নি।” অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য মেনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে না সে কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে আবেদন জানান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি পুলিশ ফাঁড়ি এবং সিসি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশিকা দিক আদালত। সরকার পক্ষে না আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গুন্ডা রাজের পরিস্থিতি চলছে। উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় ঢুকতে পারে না এই পরিস্থিতি বহুদিন ধরে চলছে। আদালতের কাছে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় সমস্ত রাজনৈতিক সভা সমাবেশ মন্দির আরজি জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি কি? নিরাপত্তা রক্ষায় কি ব্যবস্থা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ? উপাচার্য্য আইনজীবীর কাছে প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির। উপাচার্য না আইনজীবী প্রধান বিচারপতিকে জানান, উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষায় রাজ্য সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চাওয়া হয়েছে। আর্থিক অনুমোদন মিললেই প্রস্তাবিত পদক্ষেপ করা হবে।
