বলিউড সুপারস্টার সালমান খান সম্প্রতি এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তাঁর এই শারীরিক সমস্যার খবর প্রকাশ্যে আসার পর ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সালমান খান ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া নামক এক স্নায়ুবিক সমস্যায় ভুগছিলেন, যার ফলে মুখের চোয়াল, দাঁত এবং চোখের আশেপাশে তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছিল। এই ব্যথা এতটাই তীব্র ছিল যে, তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
সালমান খানের এই সমস্যাটি খুবই জটিল এবং বিরল। ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া এমন একটি রোগ, যেখানে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে এবং মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ুর মধ্যে সংকেত প্রেরণের সময় ব্যথার অনুভূতি তৈরি হয়। সাধারণত এই রোগের ক্ষেত্রে মুখ ধোয়া, দাঁত ব্রাশ করা বা খাবার চিবানোর সময় অসহনীয় ব্যথা অনুভূত হয়। সালমান খান এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং থেরাপির মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যথা ক্রমশ তীব্র হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারই ছিল একমাত্র সমাধান।
অস্ত্রোপচারের জন্য সালমান খান যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানকার বিখ্যাত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্নায়ুর ওপর থেকে চাপ কমানোর চেষ্টা করেন, যাতে ব্যথা থেকে তিনি মুক্তি পান। এই অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে চিকিৎসকদের দক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অস্ত্রোপচার সফল হয়। অস্ত্রোপচারের পর সালমান খান বেশ কিছুদিন বিশ্রামে ছিলেন এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন।
অস্ত্রোপচারের আগে সালমান খান মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে বা খেতে পারছিলেন না। মুখের তীব্র ব্যথার কারণে তিনি বেশ কিছু কাজ এবং শুটিং বাতিল করতে বাধ্য হন। তবে অস্ত্রোপচারের পর তিনি মানসিকভাবে অনেকটাই শক্তি ফিরে পেয়েছেন। সালমান খান তাঁর ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং তাঁদের আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার এবং বন্ধুরা সবসময় পাশে ছিলেন। বিশেষ করে তাঁর বাবা সেলিম খান এবং ভাই সোহেল খান মানসিকভাবে তাঁকে ভরসা দিয়েছেন।
ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া এমন একটি রোগ, যা সাধারণত মধ্য বয়সে দেখা যায়। তবে যেকোনও বয়সেই এই রোগের ঝুঁকি থেকে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে স্নায়ুর চারপাশে রক্তনালীর অস্বাভাবিক বিকাশ, স্নায়ুর ক্ষয় বা মস্তিষ্কে টিউমার। অনেক সময় স্ট্রোক বা অন্য কোনও স্নায়ুর সমস্যার কারণেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি মুখে স্বাভাবিক কাজ যেমন দাঁত ব্রাশ করা, খাবার চিবানো বা হাসির সময়ও তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। চিকিৎসকেরা জানান, এই রোগ সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা কঠিন হলেও নিয়মিত ওষুধ এবং থেরাপির মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সালমান খানের অস্ত্রোপচারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভেচ্ছা বার্তা আসতে শুরু করে। ভক্তদের একাংশ জানান, সালমান খান সবসময়ই কঠিন পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। এইবারও তিনি ব্যতিক্রম নন। অনেকেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে পোস্ট করেন এবং ভবিষ্যতে তাঁকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত দেখতে চান।
অস্ত্রোপচারের পর সালমান খান ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। তিনি বর্তমানে তাঁর আসন্ন সিনেমার শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া রিয়ালিটি শো এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের কাজও তিনি শুরু করবেন বলে জানা গেছে। চিকিৎসকেরা তাঁকে নিয়মিত ফলো-আপ চেকআপ করানোর পরামর্শ দিয়েছেন এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সালমান খান জানান, তিনি তাঁর ফিটনেস রুটিনে ফিরতে চান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চান। তিনি বলেন, “ভক্তদের ভালবাসা এবং আশীর্বাদ আমাকে সবসময় এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি আশা করি, শীঘ্রই আগের মতোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব।”
সালমান খান সবসময়ই কঠিন পরিস্থিতিকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। তাঁর মানসিক দৃঢ়তা এবং পরিবারের সমর্থনে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিয়মিত থেরাপি এবং ওষুধের মাধ্যমে তাঁর স্বাস্থ্যের উন্নতি অব্যাহত থাকবে। সালমান খান ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “ভক্তদের ভালোবাসা এবং সমর্থন আমাকে সবসময় শক্তি দেয়। আমি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার বড় পর্দায় ফিরতে চাই।”
সালমান খানের এই বিরল রোগ এবং তাঁর সফল অস্ত্রোপচার ভক্তদের মধ্যে যেমন স্বস্তি এনে দিয়েছে, তেমনি তাঁর মানসিক দৃঢ়তাও সকলকে অনুপ্রাণিত করেছে। সালমান খান সবসময়ই কঠিন পরিস্থিতিকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন এবং এইবারও তিনি সেই শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। ভক্তরা আশা করছেন, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার বড় পর্দায় ঝড় তুলবেন।
