ভোটের আগে শহরের রাজপথে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সকালে কেষ্টপুরে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য—রাস্তার ডিভাইডারে ঝুলছে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পলের নামে হলুদ ব্যানার। তাতে লেখা, “অগ্নিমিত্রাকে চায়”, সৌজন্য হিসেবে উল্লেখ, “বাংলার অসুরক্ষিত মহিলা সমাজ”। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কারা দিল এই পোস্টার? তবে কি বিজেপির একাংশ অগ্নিমিত্রাকে রাজ্য সভাপতি হিসেবে চাইছে?
ব্যানারে অগ্নিমিত্রাকে “নারীশক্তির রক্ষাকবচ” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই ব্যানারের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচনও আসন্ন, তাই রাজনৈতিক মহলের ধারণা, হয়তো তার সঙ্গেই এই পোস্টার যুদ্ধের যোগ রয়েছে। রাজ্যের বিরোধী শিবিরের একাংশ মনে করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি একজন মহিলা মুখ তুলে ধরতে চাইছে, এবং সেই কারণেই অগ্নিমিত্রার নাম প্রচারে আনা হচ্ছে।
যদিও বিজেপি এই জল্পনায় গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের দাবি, “এটা আইপ্যাকের কাজ। অগ্নিমিত্রাকে আইসোলেট করার জন্য তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাক পরিকল্পিতভাবে এসব করছে। কিন্তু বিজেপির নেতারা যথেষ্ট বুদ্ধিমান, তারা এসব ফাঁদে পা দেবে না।”
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এই ঘটনাকে সরাসরি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পোস্টার-যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কয়েকদিন আগেই দক্ষিণ কলকাতার দেওয়াল জুড়ে ‘সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’ লেখা পোস্টার ঝুলেছিল, যা রাতারাতি পাল্টে ‘সর্বাধিনায়িকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’ হয়ে যায়।
এই পোস্টার-যুদ্ধ কি শুধুই দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ ভোটকৌশল? তার উত্তর দেবে সময়। আপাতত ভোটের আগে শহরের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও চড়তে চলেছে, তা বলাই যায়।
