পরিবারের কাছে গণধর্ষণের স্বপক্ষে আইনি যুক্তি চাইল হাইকোর্ট
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
গণধর্ষণ করে নয়, ধর্ষণ করেই খুন করা হয়েছিল
আরজিকরে তরুণী চিকিত্সককে। হাইকোর্টে রিপোের্ট দিয়ে জানালো সিবিআই। কেন এই খুন ধর্ষণের ঘটনা, বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে কারা জড়িয়ে, ধর্ষণ ও খুনের পরে তথ্য প্রমাণ লোপাটের বিষয়গুলো
এখনও তদন্তাধীন। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে জানালো সিবিআই।
কতদিন লাগবে সিবিআই এর তদন্ত সম্পূর্ণ করতে? প্রশ্ন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের। বিচারপতিকে নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও আদালতকে জানায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্র খোঁজার চেষ্টা করছি। যদিও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দেন আরজিকর তদন্তে ফের রিপোর্ট পেশ করবে সিবিআই। রিপোর্টে
সিবিআই তদন্তে এখনও পর্যন্ত কার কার বয়ান নিয়েছে তার তালিকা দিতে নির্দেশ। সিবিআই তদন্ত এখন কেন আটকে বা থমকে রয়েছে তাও জানাতে হবে রিপোর্টে। কলকাতা পুলিশের দেওয়া কেস ডায়েরিও পেশ করতে নির্দেশ সিবিআইকে। একইসঙ্গে গণধর্ষণের স্বপক্ষে আইনি যুক্তি পরিবারকে পেশ করতে নির্দেশ হাইকোর্টের।
এদিন আদালতে সিবিআই আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার জানান, সমস্ত রকমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তার ফরেনসিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়েছে। বিভিন্ন ল্যাবের রিপোর্ট নিয়ে তা করা হয়েছে। দেশ বিদেশের সমস্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দের নিয়ে ১৪ ডাক্তারের বোর্ড তৈরি হয়। তারা সবকিছু খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সমস্ত ডাক্তার, নার্স, স্টাফ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং স্বীকারোক্তি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহত্তর ষড়যন্ত্র এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট দুটোরই তদন্ত চলছে। সমস্ত অফিসিয়ালদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কারণ খুঁজছে সিবিআই। অভিযুক্ত ছাড়াও অনেকের পলিগ্রাফ রিপোর্টও রয়েছে। যদিও বিচারপতি নির্দিষ্ট করে জানতে চান শুধু অভিযুক্তের না একাধিক জনের ডিএনএ পরীক্ষা হয়েছে ? সিবিআই সদুত্তর না দেওয়ায় পরবর্তী শুনানির দিন এর উত্তর চান বিচারপতি ঘোষ।
অন্যদিকে পরিবারের আইনজীবী সুদীপ্ত মৈত্র আদালতে অভিযোগ করেন,
আজ পর্যন্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি সিবিআই। যার প্রথমেই পদক্ষেপ করা উচিত ছিল। পরিবারের প্রত্যেকের বয়ান নেয়নি। ঘটনার দিন রাতে যারা ছিলেন সেরকম অনেক স্টাফের বয়ান নেওয়া হয়নি।
কলকাতা পুলিশের পর কোনও তদন্ত করেনি সিবিআই বলেও দাবি করেন তিনি। অথচ কোন যুক্তিতে সিবিআই আদালতে জানাচ্ছে মূল অপরাধ ধর্ষণ ও খুনের তদন্ত তারা আর করছে না? প্রশ্ন তোলেন পরিবারের আইনজীবী।
