পাঞ্জাবে অপরাধমূলক কার্যকলাপ এবং অবৈধ নির্মাণ রোধে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বুলডোজার অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে। অপরাধী এবং অবৈধ কার্যকলাপ চালানো ব্যক্তিদের কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না।
ভগবন্ত মান জানিয়েছেন যে, অবৈধ জমি দখল, মাদক কারবার এবং অপরাধীদের ঘাঁটি ধ্বংস করার জন্য এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশ এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে রাজ্যের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। মান স্পষ্ট করেছেন যে, প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নিরপরাধ মানুষ যেন কোনও সমস্যায় না পড়ে, সেদিকে তিনি কড়া নজর রাখছেন।
মান বলেছেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য পাঞ্জাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। যারা অবৈধ কাজ করছে, তারা যতই শক্তিশালী হোক, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। এই অভিযান অপরাধীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, পাঞ্জাবে অপরাধ সহ্য করা হবে না।”
বিরোধী দলগুলি এই অভিযানের বিরোধিতা করেছে। কংগ্রেসের নেতা অমরিন্দর সিং বলেছেন, “এই অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য চালানো হচ্ছে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” বিজেপিও অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলেছে, “অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই দরকার, তবে অভিযানের নামে নিরপরাধ মানুষের ক্ষতি করা ঠিক হবে না।”
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টি (আপ)-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই অভিযান শুধুমাত্র অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। আপ নেতাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
জনসাধারণের মধ্যে এই অভিযান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ মনে করছেন, এটি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সহায়ক হবে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেছেন, “অপরাধ দমন এবং অবৈধ নির্মাণ বন্ধের জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।” অন্যদিকে, একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, “যদি নিরপরাধ মানুষের ক্ষতি হয়, তবে তা সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে অসন্তোষ তৈরি করবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভগবন্ত মান এই অভিযানের মাধ্যমে তার দলের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চাইছেন। তারা বলছেন, “এই অভিযান যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয় এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে তা জনসমর্থন পাবে। কিন্তু অভিযানের নামে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা হলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।”
ভগবন্ত মানের বুলডোজার অভিযানের সিদ্ধান্ত পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং অপরাধ দমন যদি সফলভাবে করা যায়, তবে তা মান সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ দেখা দিলে তা জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। আগামি দিনে এই অভিযানের সফলতা মান সরকারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
