পরিতোষ সাহা:বীরভূম
তৃণমূলের হাতেই খুন হতে পারেন শাসক নেতা।চলছে লাগাতার খুনের হুমকি।এই অবস্থায় নিজেকে বাঁচাতে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে পুলিশ সুপারকে।
বীরভূমের লাভপুর বিধানসভার ঠিবা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ ওরফে সাহিন কাজীকে লাগাতার ভাবে খুনের হুমকি দিচ্ছে তার দলেরই লোক।এমনই অভিযোগ এই শাসক নেতা।বাধ্য হয়ে নিরাপত্তা চেয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী,পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়েছেন।যে ঘিরে শুরু হয়েছে চাপা গুঞ্জন।
২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা আসার আগে থেকেই ঠিবা অঞ্চলের কাজীপাড়া গ্রামের বেশ কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক ছিল।রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এই সমর্থকেরা সাধারণ মানুষের উপর তোলাবাজি থেকে শুরু করে চলে নানারকম অত্যাচার।২০১৮ সালে এই গ্রামেরই তৃণমূল নেতা ও বুথ সভাপতি সাগর শেখ তার প্রতিবাদ করে।সেই নিয়ে চলে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ।ঈদের দিনে মেয়েকে নিয়ে সাগর শেখ মটরসাইকেলে বাজারে গেলে যাবার পথে তাঁকে বোমা মেরে হত্যা করে।এই ঘটনায় ১৪ জন গ্রামবাসী অভিযুক্ত ছিল।তাদের মধ্যে ৭ সাজা ঘোষণা হয়ে গেছে।তারা প্রত্যেকেই শাসক দলের সমর্থক।বাকি সাতজন এখনও বাইরে।এই অবস্থায় বাইরে থাকা শাসক দলের সমর্থক ও সাগর শেখ খুনের অভিযুক্তরা ঠিবা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ ওরফে সাহিন কাজীকে লাগাতার ভাবে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে।কারণ,সাগর শেখ খুনের মামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সাহিন কাজী এগিয়ে আসে।আর সেই জন্য এই হুমকি।এই ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে ২০১৮ সাল থেকে ৪ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে জেলা পুলিশ।পরে সেটি কমিয়ে বর্তমানে একজন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে জেলা পুলিশ।কিন্তু তাতেও ভয় কাটেনি শাসক নেতার।
শাসক নেতা কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ ওরফে সাহিন কাজী বলেন,“ সাগর সেখ খুনের মামলায় সাত জন অভিযুক্ত, যারা বাইরে আছে।তারা বারেবারে আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে।এমনকি বোলপুরে দলীয় অফিসে মিটিং-এ গেলেও,সেখানেও তারা প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে।তাই আমি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।নিরাপত্তা চেয়ে ২৬ মার্চ আমি মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ সুপারকে চিঠি দিই।নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছি পুলিশ সুপারকে।বর্তমানে একজন নিরাপত্তা নিয়ে আমাকে ঘুরতে হয়।”
শাসক দলের নেতাকে,শাসক দলের লোকেরাই এভাবে খুনের হুমকি? যা শুনে বিরোধী নেতারা বলছে, যারা মরছে এবং যারা মারছে তারা সবাই তৃণমূল। এই কথা আমরা বারেবারেই বলে আসছি। সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন,“ এটা লুটের ভাগাভাগির জন্য এই লড়াই।যে সমস্ত তৃণমূল নেতাদের নিরাপত্তা আছে,তাদের নিরাপত্তার মূল কারণ নিজেদের দলের হাতেই তারা খুন হতে পারেন।বিরোধীরা নয়।তাই এই অবস্থা।”জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী বলেন,“এ বিষয়ে আমার কিছু জানার নেই।বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানতে হবে।”
