কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, খোদ তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরিকে সামনে আসতে দেখা যায়। সংঘর্ষে দু’পক্ষের কর্মীরা একে অপরকে আক্রমণ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জয় লাভ করে, আর বিজেপি একটিও আসন দখল করতে পারেনি।
এই পরাজয় সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রবিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে তিনি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরিকে। তিনি বলেন, ‘‘অখিল গিরি গতকাল গুন্ডামি করেছেন। ওঁকে লাঠি দিয়ে মেরে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া উচিত ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় ভোটে অশান্তি সৃষ্টি করে।’’ দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, পরাজয় মানতে না পেরেই দিলীপ ঘোষ এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। এর আগেও খড়গপুর ও কৃষ্ণনগরে দিলীপ ঘোষ মহিলাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। এবার আবার তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে।
শনিবার কাঁথি কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন সমবায় ব্যাঙ্কের ১১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। মোট ৭৮টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসন আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি ৬০ আসনের জন্য ভোটগ্রহণ চলাকালীন কাঁথির জাতীয় বিদ্যালয়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। রামনগর কলেজ ক্যাম্পাসেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি আক্রান্ত হন। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সন্ধ্যায় ভোট গণনার পর দেখা যায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটিতেই বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। বিজেপি কোনো আসন জিততে না পারলেও, তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জয়লাভ করে। বিজেপির এই পরাজয়ের পরেই দিলীপ ঘোষের এই বিতর্কিত মন্তব্য সামনে আসে, যা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে।
