মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, যদি কোনো নারী অন্য নারীর ওপর নির্যাতনে প্ররোচনা দেন বা সহায়তা করেন, তবে তাকেও সমানভাবে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, নির্যাতন কিংবা অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখলে পুরুষ বা নারী যেই হোন না কেন, শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
এই মামলার পটভূমিতে রয়েছে এক নির্যাতিতা মহিলা, যিনি আদালতে অভিযোগ জানান যে, অপরাধের নেপথ্যে অন্য এক নারীর প্ররোচনা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত নারী ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করেছিলেন, যাতে নির্যাতিতা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি খতিয়ে দেখে এবং জানায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অপরাধে সহায়তা করার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং, কোনো নারী যদি অন্যের ওপর নির্যাতন সংঘটিত করতে উৎসাহ দেন বা সহায়তা করেন, তাহলে তাকেও সমান অপরাধী ধরে নেওয়া হবে।
হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ সাধারণত মহিলাদের নির্যাতনের শিকার হিসেবেই দেখা হয়। তবে এই রায়ে আদালত দেখিয়ে দিয়েছে যে, অপরাধের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাতদুষ্ট চিন্তাভাবনা কার্যকর হবে না। যদি কোনো নারী অন্য নারীর প্রতি অবিচার বা সহিংসতায় যুক্ত থাকেন, তাহলে তাকেও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় দেশের বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের পাশাপাশি যদি কোনো নারী এই ধরনের অপরাধকে উৎসাহিত করেন, তবে তার বিরুদ্ধেও সমান আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ফলে এটি ভবিষ্যতে নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় শুধু নির্যাতনের প্রসঙ্গেই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে। অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, নির্যাতনের ঘটনায় কেবল পুরুষদের দায়ী করা হয়, কিন্তু প্ররোচনাদানকারী কেউ নারী হলে সে ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ দুর্বল ছিল। এই রায় সেই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং দেখিয়েছে যে অপরাধের দায়ভার লিঙ্গনিরপেক্ষ।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, এই রায় অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় পারিবারিক বা সামাজিক কারণে নির্যাতন সংঘটিত হয়, যেখানে নারীরাও কোনো না কোনোভাবে যুক্ত থাকেন। বিশেষ করে গৃহস্থালী নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন বা অন্য কোনো সামাজিক অবিচারের ক্ষেত্রে নারীদেরও ভূমিকা থাকতে পারে। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সেই সমস্ত ঘটনাতেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই রায়কে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। তাদের মতে, এটি শুধু বিচার ব্যবস্থারই উন্নতি ঘটাবে না, বরং সমাজেও অপরাধ প্রতিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করবে। কারণ, নারীরাও যদি অপরাধে জড়িত হন, তবে শুধু লিঙ্গের কারণে কোনো ছাড় পাওয়া উচিত নয়।
এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে নারী নির্যাতনের মামলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা সহজ হবে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অপরাধ দমনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে, যা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করবে।
