আমেরিকা বনাম ইরানের সংঘাত এবার অন্য মাত্রা নিল।সদ্য এক টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে তেহরান চুক্তি না করলে ইরানে বোমা ফেলা হবে।আর এর পরেই পাল্টা প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। আমেরিকা যদি কোনওরকম হামলা চালায় তবে পালটা জবাব দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাটির নিচে ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করছে তেহরান। যদিও তার আগেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবও খারিজ করে দিয়েছে ইরান।
তবে ইরান নিজে বিবৃতি দিয়ে না বললেও ভূগর্ভস্থ মিসাইল সিটিগুলোতে লঞ্চার মিসাইল দিয়ে সজ্জিত করার কথা জানিয়েছে দ্য তেহরান টাইমস।বলা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হলে সেদেশে বোমাবর্ষণের হুমকি দেওয়ার পর এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।তবে শুধু বোমা ফেলা নয়,পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর না-করলে ইরানের বিরুদ্ধে কী বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার পরিকল্পনার কথাও ওই সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের উপর ট্যাক্স চাপানো হতে পারে। পরমাণু চুক্তিতে সম্মত না হলে সেই শুল্কই হতে পারে পশ্চিম এশিয়ার দেশটির বিরুদ্ধে আমেরিকার অন্যতম হাতিয়ার। ট্রাম্প জানিয়েছেন চার বছর আগে যেমনটা করেছিলাম তেমন ট্যাক্স চাপাতে পারি।
কিন্তু কেন ইরানকে আলোচনায় বসাতে চাইছেন ট্রাম্প? ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ব্যাপারটাই বা কী? আসলে গত বছর মে মাসেই ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি বা আইএইএর গোপন প্রতিবেদনে জানানো হয় যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যায় এমন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ আগের চেয়েও অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে ইরান। আর এর ফলে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র তৈরিতে ইউরেনিয়াম ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে হয়। ইরান ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। ১১ মে, ২০২৪ পর্যন্ত ইরানের কাছে ১৪২.১ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আগের বারের চেয়ে ২০.৬ কেজি বেশি।
যদিও বারবার ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ পশ্চিমী দুনিয়ার অভিযোগ, অসামরিক কাজের জন্য এর চেয়ে বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কোনও যুক্তিগত কারণ নেই।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও আমেরিকার সঙ্ঘাত আজকের নয়।২০১৫ সালে বারাক ওবামার জমানায় ইরানের সঙ্গে তিন বছরের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তির ফলে শুধুমাত্র পরমাণু বিদ্যুতের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করতে পারত ইরান, পাশাপাশি ১০ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি ফিরে পায় তারা। তবে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেই এই চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে আসেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে আবার কড়া তেহরান বিরোধী অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস। আমেরিকা চাইছে নতুন করে পরমাণু সমঝোতা করতে। তবে তেহরানের অভিযোগ, নিরস্ত্রীকরণের অজুহাতে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে ‘কোপ’ বসাতে চাইছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল।তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্প্রতি বলেছেন যে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য আলোচনা বা সমস্যা সমাধান করা নয়, গুন্ডামি করা বা অন্যদের উপর আধিপত্য বিস্তার করা।এমন পরিস্থিতিতে দুপক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘই দেখতে পাচ্ছেন অনেকে।
Leave a comment
Leave a comment
