এক অঙ্গে বহুরূপ। একবার সিঙ্গুরের তিন ফসলি জমিতে তিনদিনের শ্রী শ্রী ১০৮ রুদ্র মহাযজ্ঞ উৎসব করে শ্রী মৎ দণ্ডী স্বামী সুরেশ্বরাশ্রাম মোহন্ত মহারাজের আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেন তিনি। শান্তি কামনায় যজ্ঞ করলেন। নান্দীমুখ এর আসর বসালেন। জলযাত্রা হলো। স্কুলের একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। তার ফলাও প্রচার করলেন তিনি সব জায়গায়। নেতার এই অনুষ্ঠানে হাজির হলেন সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে সবাই। আবার ঠিক পরদিন ভোরবেলায় নিয়ম করে তিনি ঈদ মোবারক এর শুভেচ্ছা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার নেটওয়ার্ক এ জানিয়ে দিলেন। তিনি ধর্মেও আছেন আবার জিরাফেও আছেন। বেশ ভালো ব্যাপার কিন্তু এটা। একদম ব্যালান্সড ডায়েট নিয়ে বেঁচে থাকা রাজনীতির এইসব নানা লোকদের।
একদা সিঙ্গুর কৃষিজমি রক্ষা কমিটির আহবায়ক তথা বর্তমানে রাজ্যের দোর্দণ্ড প্রতাপ মন্ত্রী তাঁর ক্ষমতা অনেক এমন কথা শোনা যায় তাঁর লোকদের মুখে। তাঁর নামে বাঘে গরুতে একঘাটে জল খায় বলে প্রবাদ আছে। শুধু নিজেই মন্ত্রী নন তাঁর ঘরের মানুষটিও আবার মন্ত্রী না হলেও বিধায়ক হয়েছেন স্বামীর এই সিঙ্গুর আন্দোলনের কর্মকৃতিত্বেই। হ্যাঁ, সেই বিখ্যাত বেচারাম মান্না আর করবী মান্নার কথা বলছি আমি। হুগলীর সিঙ্গুর বিধানসভা আর হরিপাল বিধানসভার বিধায়ক এই দুজন। জেলার মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস এর নেত্রী। একদম সাজানো গোছানো সংসার আর সুন্দর রাজনীতির জীবন। মেপে মেপে পা ফেলে। কখনও যজ্ঞ করে আবার কখনও আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করে।
সেই সিঙ্গুর কৃষি জমি নিয়ে আন্দোলন করা এক ডাকাবুকো সিপিএমের তাজা ছেলের হঠাৎ করেই জমি আন্দোলনে নেমে পড়া। যে জমি একসময় ছিল লাল পার্টির মূল শক্তি। যে জমি একসময় সিপিএমের মূল ভিত্তি ছিল। যে জমিতে চাষ করা কৃষক ছিল সেই লাল পার্টির সরকারের মূল শক্তি। সেই জমিতেই একদিন শিল্প গড়ার ইচ্ছা হলো সরকারের। আর বেচারাম মান্না আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের আগুনে মুখ পুড়লো বহুদিনের এই বাম সরকারের। যে জমিতে আজ টাটাদের কারখানা না হলেও বিড়লাদের ওপেন মাইন্ড ঝাঁ চকচকে স্কুল হচ্ছে।
সেই স্কুলের এক অনুষ্ঠানে রুদ্র মহাযজ্ঞের আয়োজন হচ্ছে। শান্তি স্বস্ত্যয়ন হচ্ছে। মহারাজের আশীর্বাদ প্রার্থনা হচ্ছে। আর ঠিক পরদিন আবার সেই এক ব্যক্তি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছেন। একদম বিজ্ঞানের ভাষায় মিথোজীবি প্রক্রিয়ায় বেঁচে থাকা যেনো। একে অপরকে আঁকড়ে ধরে। একদিকে রাম আর অন্যদিকে রহিমকে বুকের মাঝে জড়িয়ে নিয়ে। মাঝে শুধুই যমুনা নদী পার হয়ে ভোট বৈতরণী পার হয়ে যাওয়া একটু কষ্ট করে। আর তাহলেই কেল্লাফতে। নিশ্চিত জীবন। নিশ্চিত ক্ষমতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া বছর বছর। নিশ্চিত লালবাতির আলোয় আলোকিত হওয়া। আশেপাশে জনতার দরবারে বসে সবার কাছে মসিহা হয়ে ওঠা। হাসিমুখে জীবন কাটিয়ে দেওয়া রুদ্রদেবের আশীর্বাদ আর আল্লাহর দোয়া নিয়ে।
না হয় টাটার গাড়ি কারখানা হয়নি সিঙ্গুরে ইচ্ছুক আর অনিচ্ছুক আর দ্বন্দ্বে আর দু পক্ষের দড়ি টানাটানিতে। কিন্তু সিঙ্গুরে বিড়লাদের ঝাঁ চকচকে স্কুল তো একটা হয়েছে। যে স্কুলে সিঙ্গুরের ছেলে মেয়েরা পড়বে আর উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভিন রাজ্যে কাজের সন্ধানে সবাই বাইরে চলে যাবে। আর এক অঙ্গে বহুরুপ নিয়ে আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াবেন নেতা, মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজনীতির নানা কলাকুশলীরা। শুধু রুদ্র মহাযজ্ঞ আর আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করে।
