উদ্দেশ্য, রাজ্যে বিনিয়োগ টানা। আর সেই উদ্দেশ্যে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ৪০০ একর জমিতে আইটি পার্ক করার পরিকল্পনা করেছে সে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার। ডাকা হয়েছে দরপত্রও। কিন্তু পরিবেশের প্রশ্ন তুলে তাতে আপত্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একটি অংশের। তা নিয়েই এখন উত্তপ্ত তেলঙ্গানা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৭৪ সাল থেকে জমিটির মালিক রাজ্য সরকার। যদিও পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, ওই পার্ক তৈরি হলে পরিবেশে তার কুপ্রভাব পড়বে। রবিবার ওই জমিতে বুলডোজার নিয়ে পৌঁছে যায় রেবন্ত রেড্ডির প্রশাসন। তাতে বিবাদ আরও উস্কে ওঠে। বুলডোজ়ারে উঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন ছাত্ররা। পুলিশের বিরুদ্ধেও স্লোগান ওঠে। ভাইরাল ভিডিওয় দেখা যায়, পড়ুয়াদের টেনেহিঁচড়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা হচ্ছে।
এ নিয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছে কেসিআরের দল বিআরএস। তাদের দাবি, ছাত্রীদের জোর করে টেনে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে এক বিআরএস নেতা বলেন, ‘‘এটা ভালবাসার দোকান নয়, বিশ্বাসঘাতকতা।’’
পুলিশ জানিয়েছে, গোলমালের ঘটনায় ৫৩ জন পড়ুয়াকে আটক করা হয়েছিল। তাঁরা সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছিলেন। পুলিশকে মারধর করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন অবশ্য এই দাবি মানেনি। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবি, জমি সমান করতে বুলডোজার আনা হয়েছিল। এক ছাত্রী বলেন, “জেসিবি গুলি ক্যাম্পাসের পূর্ব দিকে জমি সমান করার কাজ করছিল।” আর এক ছাত্রীর অভিযোগ, তাকে পুলিশ জোর করে আটক করেছে। “আমরা শুধু জানতে চেয়েছিলাম কেন বন ধ্বংস করা হচ্ছে? আমাদের জোর করে আটকে রেখে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে হেফাজতে।”
মুখ্যমন্ত্রী রেড্ডি পড়ুয়া সংগঠনের দাবি মানতে নারাজ। তাঁর পাল্টা দাবি, ছাত্রদের কর্মকাণ্ডের পিছনে রয়েছে নির্দিষ্ট উসকানি। আইটি পার্ক হলে বহু কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু রাজনীতির বোড়ে হয়ে ছাত্ররা এখন তারই বিরোধিতায় নেমেছেন বলে অভিযোগ রেবন্ত রেড্ডির।
