এতদিন রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্কের সরলরেখাটা ভালই চলছিল। কিন্তু এবার তা নিয়ে নিল একেবারে ইউটার্ন। আমেরিকার এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ‘খুব রেগে আছেন’।ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রুশ ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জানান, “যদি এই চুক্তি কার্যকর না-হয়, যদি আমি মনে করি রাশিয়ার ভুলের জন্যই এটা হল।” তিনি আরও বলেছেন, “তা হলে আমি রাশিয়ার উপর দ্বিতীয় বারের জন্য বিধি-নিষেধ আরোপ করব।” শুধু তাই নয় এর জেরে রাশিয়া থেকে রফতানি হওয়া তেলের উপরেই শুধু নয়, সেই তেল যে সমস্ত দেশ কেনে, তাদের উপরেও শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
অথচ কদিন আগেই জানা গিয়েছিল যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। জানা গিয়েছিল কৃষ্ণসাগর নিরাপত্তা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। হামলা বন্ধে রাজি হয়েছে দুপক্ষ। কিন্তু এর মধ্যেই প্রায় ১৮০ ডিগ্রি যান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার তিনি প্রস্তাব দেন ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনের বদলে একটি অস্থায়ী প্রশাসনকে দেশ শাসন ও নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হোক। তাঁর দাবি এই সরকারের আওতায় নতুন নির্বাচন এবং এই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অবসানের জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি সাক্ষর সম্ভব হবে। নির্বাচন না করে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জন্য ট্রাম্পের মতই পুতিন পরোক্ষভাবে জেলেনস্কিকে একনায়ক বলে অভিযুক্ত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুতিন দাবি করে আসছেন, ইউক্রেনের বর্তমান জেলেনস্কি প্রশাসনের বৈধতা নেই এবং তিনি তাদের সঙ্গে আলোচনা বা দরকষাকষি করতে আগ্রহী নন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে তিনি এখনো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তবে এখানেই শেষ নয়, আলোচনার টেবিলে রাশিয়ার আধিপত্য বজায় রাখতে যেকোনো মূল্যে ইউক্রেনীয় সেনাদের ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করতে তার সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশও দেন পুতিন। অর্থাৎ ইউক্রেন ইস্যুতে প্রথম থেকেই যুদ্ধক্ষেত্র হোক বা কূটনৈতিক আলোচনা উভয় ক্ষেত্রেই প্রাধান্য বজায় রাখতে চাইছে রাশিয়া।
আর এর পরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন, “যদি রাশিয়া ও আমার মধ্যে ইউক্রেনে রক্তপাত বন্ধ করার কোনো চুক্তি না হয়, এবং আমি যদি মনে করি যে এটা রাশিয়ার দোষ… তাহলে রাশিয়া থেকে আসা সব তেলের উপর আমি সেকেন্ডারি ট্যারিফ বসাব।”
ট্রাম্প যদি রাশিয়ার তেলের উপরে সেকেন্ডারি শুল্ক চাপানোর পথে হাঁটেন তাহলে বিপাকে পড়তে পারে ভারত এবং চিন। কারণ রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমেরিকা ও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ মস্কোর কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ রাখলেও অশোধিত তেল আমদানি করে গিয়েছে ভারত এবং চিন।এখন ট্রাম্প শুল্ক বসালে তার মূল্য চোকাতে হবে নয়াদিল্লি আর বেজিংকে।ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন আপনি যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনেন, তা হলে আপনি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবেন না। সব ধরনের তেলের জন্য ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক লাগবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে পারেনি। রাশিয়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, পাশাপাশি ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক অভিযান তীব্র করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে পুতিন তাঁর রাগ সম্পর্কে জানেন। তবে তিনি এখনও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ‘ভাল সম্পর্ক’ বজায় রেখেছেন। ট্রাম্প যোগ করেছেন যে, পুতিন যদি ইউক্রেন সংক্রান্ত ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেন, তাহলে তাঁর রাগ কমে যাবে।
Leave a comment
Leave a comment
