চেন্নাই সুপার কিংসের সামনে জয়ের সমীকরণ ছিল শেষ ওভারে ২০ রান। ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিজ্ঞ মহেন্দ্র সিং ধোনি, সঙ্গে রবীন্দ্র জাদেজা। প্রতিপক্ষের হয়ে বল করতে এসেছিলেন সন্দীপ শর্মা। সমর্থকদের আশা ছিল, ধোনির হাত ধরেই ম্যাচ ঘুরে যাবে।
কিন্তু পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠছিল, কারণ প্রতিপক্ষের বোলিং ছিল সুসংগঠিত। প্রত্যেকটি বলই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখছিল। শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল, যেখানে ধোনির অভিজ্ঞতা ও শট নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছিল চেন্নাইয়ের ভাগ্য। প্রথম বলেই আউট! মুহূর্তেই বদলে গেল ম্যাচের গতি, হতাশায় ডুবে গেল সমর্থকরা।
চেন্নাইয়ের হারের পর ভক্তদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধোনিকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এখন তাঁর বিদায় নেওয়ার সময় এসে গেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, তিনি দলকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের জায়গা ধরে রাখছেন, আবার অনেকে বলছেন, তরুণদের সুযোগ দেওয়া উচিত।
এর আগেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে শেষদিকে ব্যাট করতে নেমে সমালোচিত হয়েছিলেন ধোনি। এবার সাত নম্বরে নেমে শুরু থেকেই ধীরগতিতে খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু লয় খোঁজার আগেই আউট হয়ে যান, যা চেন্নাইয়ের জয়ের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ করে দেয়।
ধোনির আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চেন্নাইয়ের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। শেষ ওভারে ১৩ রান তুললেও দলকে জয় এনে দিতে পারেনি ব্যাটিং লাইনআপ। বিশেষ করে, ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে সমালোচিত হচ্ছেন রবীন্দ্র জাদেজা, যিনি ২২ বলে ৩২ রান করেও ম্যাচের মোড় ঘোরাতে ব্যর্থ হন।
শেষ মুহূর্তে চেন্নাইয়ের ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিতে না পারায় মাত্র ৬ রানে পরাজিত হতে হয় দলকে। ধোনির ১১ বলে ১৬ রানের ইনিংস (একটি চার, একটি ছয়) আশা জাগালেও, তাঁর আউট হওয়া ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
নীতিশ রানা দুর্দান্ত ব্যাটিং করে রাজস্থানের ইনিংসকে এগিয়ে দেন, মাত্র ৩৬ বলে ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলের জন্য শক্ত ভিত গড়ে তোলেন। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই রাজস্থান লড়াই করার মতো স্কোর সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। রিয়ান পরাগ ২৮ বলে ৩৭ রান করেন, গুরুত্বপূর্ণ সময় দলের জন্য অবদান রাখেন। অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন ২০ রান করেন, আর শিমরন হেতমায়ের ১৯ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস উপহার দেন।
তবে দলের অন্য ব্যাটাররা আশানুরূপ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি, যার ফলে রাজস্থানের স্কোর আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। মূলত রানা এবং পরাগের ব্যাটিং ভরসায় দল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, যা ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চেন্নাই সুপার কিংসের ইনিংস শুরু থেকেই চাপে ছিল, কারণ টপ অর্ডার ব্যর্থ হয় দ্রুত। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় একা লড়াই চালিয়ে যান এবং ৪৪ বলে ৬৩ রান করেন। তবে তাঁর আউটের পর ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। চেন্নাই সুপার কিংসের জয় নির্ভর করছিল মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবীন্দ্র জাদেজার ওপর, কিন্তু শেষ ওভারে তাঁরা দলকে জেতাতে ব্যর্থ হন। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার দুর্দান্ত স্পিনে (৪ উইকেট) চেন্নাইয়ের ব্যাটিং বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শেষ মুহূর্তে কিছুটা লড়াই হলেও, মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে পরাজয় বরণ করতে হয় দলকে।
ধোনির ব্যাট থেকে জয়ের শট বের হবে বলে সমর্থকরা আশায় ছিলেন, কিন্তু প্রথম বলেই তাঁর আউট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর জাদেজা অপরাজিত থাকলেও, প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেননি। ফলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়ছে। কেউ বলছেন, ধোনির জায়গায় তরুণদের সুযোগ দেওয়া উচিত, আবার কেউ তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ম্যাচ জেতার মতো অবস্থানে থেকেও হারের কারণে দলকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। চেন্নাইয়ের এই হার প্লে-অফের দৌড়ে বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
