পরিবেশ বান্ধব পরিবহনের দিকে আরো একধাপ এগিয়ে গেল ভারত। আজই প্রথমবারের মতো রেলপথে গড়াবে প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের চাকা। এই ট্রেন চলবে হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত রুটে।এই ট্রেন তৈরি হয়েছে চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (ICF)। ট্রেনটির ট্রায়াল শুরু হবে ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে। ঘণ্টায় গতিবেগ ১১০ কিলোমিটার রয়েছে এই ট্রেনটির। ২৬৩৮ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম এই ১২০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রেনটি।
এই হাইড্রোজেন ট্রেন তৈরির জন্য ২,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল রেল মন্ত্রক। এর আওতায় প্রস্তুত করা হচ্ছে ৩৫টি ট্রেন। এতে কোচ থাকবে ৮টি। ১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলবে এই ট্রেন। এই ট্রেন বিশ্বের দীর্ঘতম হাইড্রোজেন ট্রেনগুলির মধ্যে হবে একই। জানা গিয়েছে যে, ঐতিহ্যবাহী এবং পাহাড়ি রুটে হাইড্রোজেন ফর হেরিটেজ’-এর আওতায় ৩৫টি হাইড্রোজেন ট্রেন চালানো হবে। আরোও জানা গিয়েছে, এই হেরিটেজ রুটে হাইড্রোজেন ট্রেন চালানোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
অন্যান্য ট্রেনগুলি থেকে কিন্তু একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির এই নতুন হাইড্রোজেন ট্রেনটি। সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত এই ট্রেন। অর্থাৎ এই ট্রেন চালালে কোনরকম কোন দূষণের সম্ভাবনা থাকছে না। তার পাশাপাশি, এই ট্রেনটি একেবারেই পরিবেশবান্ধব। হাইড্রোজেন ট্রেনে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র জল এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। যার কারণে বায়ু দূষণ হওয়ার কোন রকম সম্ভাবনাই থাকছে না।
এই পদক্ষেপের ফলে ভারত হাইড্রোজেন চালিত রেল পরিবহন গ্রহণকারী শীর্ষস্থানীয় দেশগুলির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। সফল পরীক্ষামূলক পর্যায়ের পর, ভারতীয় রেলওয়ে এই ট্রেনগুলিকে নিয়মিত পরিষেবায় একীভূত করার, কার্বন নির্গমন হ্রাস করার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য নির্গমন অর্জনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যসভায় এই উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “এই প্রকল্পটি বিকল্প শক্তিচালিত ট্রেন ভ্রমণের প্রতি ভারতীয় রেলের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করে, ভারতের পরিবহন খাতের জন্য একটি পরিষ্কার এবং সবুজ ভবিষ্যত নিশ্চিত করে।”
