ওড়িশার প্রাক্তন আইটি মন্ত্রী পীযূষ গেহলোতের বিরুদ্ধে এক বড় সাইবার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে তিনি ১.৪ কোটি টাকা হারিয়েছেন। ওই প্রতারণাটি মূলত একটি অনলাইন ফিনান্সিয়াল স্ক্যাম, যেখানে প্রতারকরা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
এ ঘটনায় পীযূষ গেহলোত জানান যে, তিনি তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কিছুদিন আগে একটি অস্বাভাবিক লেনদেন লক্ষ্য করেন, যেগুলি তার অনুমতি ছাড়া সংঘটিত হয়েছিল। এরপর তিনি ওড়িশা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে যে, তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তারা এই অপরাধীদের ধরার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করছে।
ওড়িশা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার প্রধান, জানালেন যে, সাইবার প্রতারণার মধ্যে একাধিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতারকরা মূলত ফোন কল, মেসেজ এবং ফেক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গেহলোতকে ফাঁদে ফেলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করেছে। তারা তার অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ট্রানজেকশন সম্পন্ন করে অর্থ চুরি করেছে।
পীযূষ গেহলোতের টাকার প্রতারণা হওয়া বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতাও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
ওড়িশা পুলিশের সাইবার সেলে কাজ করা একটি সূত্র জানায় যে, অভিযুক্তদের ধরার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল ট্র্যাকিং টুলস ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা ইতিমধ্যেই কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজ পেয়েছে এবং তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তবে এই ধরনের সাইবার অপরাধের প্রতিকার সহজ নয়, কারণ অভিযুক্তরা সাধারণত বিভিন্ন প্রকারের ফেক আইডি এবং ভুয়া লেনদেনের মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে।
এদিকে সাইবার সিকিউরিটির বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও কার্যকরী প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি বড় সংস্থা এবং সরকারী প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে, তবে মানুষের নিরাপত্তা এবং সচেতনতার অভাবেই সাইবার অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে।
অন্যদিকে, পীযূষ গেহলোতের পক্ষ থেকে তার সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে একটি স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়া তার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করেন যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি তার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হবে এবং প্রতারকদের শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি জনসাধারণকে এই ধরনের সাইবার প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার জন্য সচেতনতার প্রচার করেছেন।
এছাড়া, বিভিন্ন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। নিয়মিতভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ চেক করা এবং সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এই সাইবার প্রতারণার ঘটনা ওড়িশা রাজ্যে একটি নতুন ধরনের হুঁশিয়ারি প্রদান করছে, যেখানে এমন অপরাধগুলি অত্যন্ত সহজেই ঘটছে, যা সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আশা করা হচ্ছে, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে যাতে এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এমন সাইবার প্রতারণার ঘটনায় অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি, ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
