গত মরসুমের আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দুর্বল পারফরম্যান্স হার্দিক পান্ডিয়ার জন্য কঠিন সময় এনে দেয়। দল প্রত্যাশিত ফল না করায় সমর্থকদের ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। গুজরাট টাইটান্স ছেড়ে মুম্বইয়ে ফিরে আসার পর থেকেই তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। আমেদাবাদ থেকে শুরু করে ওয়াংখেড়ে পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি স্টেডিয়ামেই দর্শকদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় তাকে। নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনেকের পছন্দ হয়নি, যার প্রতিফলন দেখা যায় মাঠের পরিবেশেও। হার্দিককে লক্ষ্য করে একের পর এক সমালোচনা ধেয়ে আসে, যা তার খেলায়ও প্রভাব ফেলেছিল।
অবশেষে বদলে গেল পরিস্থিতি। সোমবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দারুণ জয় তুলে নিল। টানা সমালোচনার মধ্যে থাকা দলটি এই জয়ে কিছুটা স্বস্তি পেল। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম, যেখানে এতদিন ক্ষোভের সুর বাজছিল, সেখানেই এবার উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন সমর্থকরা। হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে যাঁরা সন্দিহান ছিলেন, তাঁরাও মুম্বইয়ের দাপুটে পারফরম্যান্স দেখে উল্লাসে মেতে উঠলেন।
মাঠে দলীয় পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত, বোলিং থেকে ব্যাটিং—সব বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়েছে মুম্বই। এই জয়ে আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেল তারা। এখন দেখার, এই ছন্দ ধরে রেখে পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও দল একইভাবে সাফল্য এনে দিতে পারে কি না। ম্যাচের আগে কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে সমর্থকদের অনুরোধ করেছিলেন দলকে সমর্থন জানাতে, এবং এই জয়ে সেই ডাকে যেন সাড়া দিল ওয়াংখেড়ে।
টস জিতে কেকেআর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় এবং পুরো ইনিংসটাই চাপের মধ্যে কাটায়। বিপক্ষ বোলারদের আক্রমণের সামনে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত ভেঙে পড়ে। ১৬.২ ওভারের মধ্যেই মাত্র ১১৬ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। অংকৃষ রঘুবংশী (২৬), রমনদীপ সিং (২২) ও মণীশ পান্ডে (১৯) দলের ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করলেও বড় রান করতে ব্যর্থ হন।
একের পর এক উইকেট হারানোর ফলে কেকেআর কোনও জুটি গড়তে পারেনি, যার ফলে দল প্রত্যাশিত রান তুলতে পারল না এবং প্রতিপক্ষ বোলারদের সামনে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলো। মুম্বইয়ের বোলার অশ্বিনী কুমার একাই ৪ উইকেট শিকার করে কেকেআরের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সামনে ১১৭ রানের লক্ষ্য খুব সহজ হয়ে গেল। ব্যাটিংয়ে নেমে দলটি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে এবং মাত্র ১২.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। দলের জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন রায়ান রিকেলটন, যিনি ৬২ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ব্যাটিংয়ের ওপর ভরসা রেখেই মুম্বই ম্যাচটিকে একপেশে করে ফেলে।
কেকেআরের বোলাররা তাকে কোনো চাপে ফেলতে পারেননি, বরং রিকেলটন প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী শট খেলেছেন। মুম্বইয়ের দাপুটে জয়ে দলের ভেতরে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। হার্দিক পান্ডিয়ার অধিনায়কত্ব নিয়ে যে সমালোচনা চলছিল, তা কিছুটা হলেও ম্লান হলো এই পারফরম্যান্সের পর। টানা হতাশাজনক ম্যাচগুলোর ধাক্কা সামলে অবশেষে দল ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে, যা সমর্থকদের মাঝেও আশার সঞ্চার করেছে।
এই জয়ের ফলে সমর্থকদের রোহিত শর্মার প্রতি অভিমানও কিছুটা কমেছে। অনেকেই মনে করছিলেন, মুম্বইয়ের সাফল্যের পথ হয়তো কঠিন হয়ে উঠেছে, কিন্তু এই দাপুটে জয় সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়ার নেতৃত্বে পাওয়া এই সাফল্য তার ওপর আস্থা ফেরানোর পথে বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এটি শুধু একটি জয় নয়, বরং নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। সমর্থকরা এখন আশাবাদী, হার্দিকের মুম্বই সামনে আরও ভালো কিছু উপহার দেবে।
