নয়া ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫ নিয়ে উত্তাল হতে চলেছে লোকসভা। আজ, বুধবার বেলা ১২টায় বিলটি পেশ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভাতেও উঠতে পারে বিলটি। বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতার মাঝেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবির আত্মবিশ্বাসী, বিশেষত শরিক দলগুলির সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পর।
বিলের মূল বিতর্ক ঘুরছে ওয়াকফ বোর্ডের ক্ষমতা কমিয়ে জেলা প্রশাসনের হাতে তা অর্পণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, যে কোনও সম্পত্তিকে ওয়াকফ ঘোষণার একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে ওয়াকফ বোর্ডের হাতে। নতুন সংশোধনীতে সেই ক্ষমতা জেলাশাসক বা সমপদমর্যাদার কোনও আধিকারিকের হাতে দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এটি জমি দখলের অপব্যবহার বন্ধ করবে, তবে বিরোধীরা বলছে, এটি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করার ষড়যন্ত্র।
এনডিএ-র শরিক দলগুলির অবস্থান প্রথমে স্পষ্ট না হলেও, শেষমেশ বিজেপির কৌশল সফল হয়েছে। নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) দু’টো দলই বিলের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। এছাড়া শিবসেনার (শিন্ডে গোষ্ঠী) এবং চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) ইতিমধ্যেই তিন লাইনের হুইপ জারি করে সমর্থনের বার্তা দিয়েছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, সিপিআই(এম), সিপিআই-সহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ একজোট হয়ে বিলটির বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে রণকৌশল নির্ধারণ করেছেন।
সংখ্যাতত্ত্ব বলছে, লোকসভায় ২৭২ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিজেপির ২৪০, জেডিইউ-এর ১২, টিডিপির ১৬, শিন্ডে-শিবসেনার ৭ এবং চিরাগের দলের ৫ জন সাংসদ একত্রিত হওয়ায় বিল পাশের পথে কোনো বাধা নেই। রাজ্যসভাতেও এনডিএ-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিল পাশ হওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
অতএব, আজকের লোকসভায় বিল নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। সরকার তার কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায়, আর বিরোধীরা দাবি করছে, এটি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। এখন দেখার, সংসদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়।
