বিশ্ব যোগাশানে সেরার সেরা হয়ে জোড়া সোনা জয়ী বৈদ্যবাটির অতনু
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
নিষ্ঠা,অধ্যবসায় এবং স্বপ্ন পূরণের জেদ যদি থাকে তাহলে অসাধ্য সাধন করা যায়। যে অভাবী সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা সেই সংসারের মধ্যমণি এখন জোড়া সোনার পদক। শুনতে কিছুটা রূপকথা মনে হলেও এই রূপকথাকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে এনেছে হুগলির বৈদ্যবাটির অতনু হালদার। যে হালদার পরিবারে যোগাসন করাটাও ছিল বিলাসিতা নিম্নবিত্ত প্রান্তিক পরিবারের অতনু ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত বিশ্ব যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-এ বালক বিভাগে সেরার সেরা শিরোপা অর্জন করেছে। জোড়া পদক নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই বৈদ্যবাটি র ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বারিক জঙ্গল রোডের ঘরে ফিরেছে সোনার ছেলে অতনু।
বৈদ্যবাচীর বনমালি মুখার্জি ইনস্টিটিউশনের একাদশ শ্রেণির কলা বিভাগের ছাত্র অতনুর বাবা সঞ্জয় হালদার পেশায় একজন মোটর ভ্যানচালক। সঞ্জয়বাবু জানান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ দিতে ভিয়েতনামে যাওয়ার জন্য লক্ষাধিক টাকার সংকুলান কোনমতেই তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।। লোকের কাছে চেয়ে চিনতে যেটুকু জোগাড় করা হয়েছিল তাতে ভিয়েতনামের ধারেকাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ছিল না অতনুর। সব মিলিয়ে ছেলের স্বপ্ন পূরণ যখন ফিকে হওয়ার মুখে ঠিক তখনই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে কিছু অর্থ সাহায্য মেলে হালদার পরিবারের। সেই সম্মিলিত অর্থে ভিয়েতনামে পৌঁছয় অতনু। আর সে কারণেই অতনুর মা বুলু হালদার জানিয়েছেন ” কখনোই ভাবিনি যে ছেলেকে ভিয়েতনামে পাঠাতে পারবো। ছেলের এই সাফল্যের পিছনে অনেকের অবদান আছে।”
গত ২৭ মার্চ ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বিশ্ব যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রিদমিক ও ট্রাডিশনাল অনূর্ধ্ব ১৮ বিভাগের যোগ দেয় ১১ টি দেশের প্রায় ৩০০ জন প্রতিযোগী। ২৮ ও ২৯ মার্চ দুই বিভাগের চূড়ান্ত পর্বে সকলকে ছাপিয়ে স্বর্ণপদক জেতে বৈদ্যবাটির অতনু। স্বাভাবিকভাবেই সোনার ছেলে অতনু হালদার কে নিয়ে গর্বিত হুগলির এই মফস্বল। ” যত অভাবই থাক না কেন প্রতিভাকে কখনোই আটকে রাখা যায় না। তবে তার জন্য প্রয়োজন যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা। না হলে অটলুটির মতো এ ধরনের বিরল প্রতিভা অকালে ঝরে যাবে যা অতনুর ঘটনা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল” মন্তব্য জঙ্গল দ্বারিক রোডের স্থানীয় ক্লাবকর্তার। আর অসাধ্য সাধন করা সোনার ছেলে অতনুর বক্তব্য ” প্রতিযোগিতা খুব কঠিন ছিল তবে নিজের লক্ষ্যে স্থির ছিলাম। দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে এর থেকেও বড় প্রতিযোগিতায় নেমে দেশের হয়ে পদক জিততে চাই।” অর্থাৎ এখানেই স্বপ্ন দেখা শেষ নয়, স্বপ্নের তো সবে শুরু। আর বৈদ্যবাটির সোনার ছেলে অতনুর এই স্বপ্নের পথ চলায় শুভকামনা রইল JAZZBAAT24 নিউজ নেটওয়ার্কেরও।
