লাল পার্টির সিপিএম। পলিটব্যুরো। পার্টি কংগ্রেস। সমাজতন্ত্র। ইনক্লাব জিন্দাবাদ। গেরুয়া বাহিনীর মোকাবিলা কোন পথে সেটা নিয়ে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব আর উপদ্বন্দ্ব। সীতারাম ইয়েচুরির উত্তরসূরি কে হবেন সেটা নিয়ে জোর আলোচনা, তর্ক আর বিতর্ক। কমরেড সীতারাম ইয়েচুরি নগর। কার্ল মার্কসের সেলফি পয়েন্ট। কি নেই এই সিপিএমের এই ২৪ তম পার্টি কংগ্রেসে। হ্যাঁ, তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরে বসেছে ২৪ তম পার্টি কংগ্রেস। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মন্দিরের শহর মাদুরাইতে জড়ো হয়েছেন প্রায় হাজার খানেক লাল পার্টির নেতা কর্মী অনেকেই। যে পার্টি কংগ্রেসের উদ্বোধন করলেন পার্টির প্রবীণ সদস্য বিমান বসু বেলুন উড়িয়ে। হাজির হয়েছেন সব দাপুটে নেতারা। যাঁরা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট জমা দেবেন তাঁদের ভাষণে। বলবেন কোন পথে এগোবে দল আগামী দিনে। যাতে দলের অভীষ্ট সাধন হয়। দলের লক্ষ্য পূরন হয় আগামী দিনে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্ধ বিরোধিতা করা। নাকি অন্য কোনোও আওয়াজ তুলতে হবে এই রাজ্যে। সংঘ ও বিজেপির মোকাবিলা কোন পথে করা হবে। আর এইসবের মাঝে প্রকাশ্যে এসে পড়ছে দলের অন্তঃসারশূন্য সংগঠন। যা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে দলের নেতাদেরও। আর এই হাড় কাঁপানো নয়, হাড় হিম করা নয়, হাড় জিরজিরে সংগঠন নিয়েই বসছে দলের ২৪ তম পার্টি কংগ্রেস। মন্দির শহর মাদুরাইতে। যেখানে একদা এই লাল পার্টির দাপুটে দলের নেতারা উপস্থিত হয়ে বলবেন আগামীদিনে দলকে কোন পথে চলতে হবে সকলকে সাথে নিয়ে না একাই।
যেখানে সেই কার্ল মার্কসের সেলফি পয়েন্ট এলাকায় দেখা গেলো একদম অন্য মুডে ডি রাজাকে। সেলফি মুডে। সেলফি স্টাইলে, সেলফি পয়েন্ট এলাকায়। যা একদম নতুন রূপে ধরা পড়লো ক্যামেরায়। সত্যিই অসাধারণ এই ছবি। অসাধারন এই সেলফি পয়েন্ট। যেখানে দাঁড়িয়ে বা বসে কার্ল মার্কসের মূর্তির পাশে মুঠোফোনে বন্দী হয়ে ছবি তুলছেন একদা বাম দলের সব সেরা সেরা নেতারা হাসি হাসি মুখে। সত্যিই বেশ ভালো ব্যাপার কিন্তু যে লাল পার্টির লাল নেতারা একদম অন্য ধরনের অন্য ঘরানার কিছুতেই নিজেদের বদলে নিতে পারেন না হাজার ঝড় ঝাপটাতেও তাঁরাও আজ কেমন করে যেন নিজেদের ধীরে ধীরে বদলে নিতে চেষ্টা করছেন একটু একটু করে। সত্যিই কি এই পার্টি কংগ্রেস আর সেই সব একদা বিখ্যাত দাপুটে নেতারা পারবেন তাঁদের বদলে নিয়ে আবার নতুন করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট গন্তব্যে আর লক্ষ্যে। যে স্বপ্ন একদিন কার্ল মার্কস দেখেছিলেন। মার্ক্সের দৃষ্টিভঙ্গিতে, উন্নত কমিউনিজমের মূল নীতি হল প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সংহতির নীতি। তিনি বলতেন ‘প্রত্যেকের কাছ থেকে তাদের সামর্থ্য অনুসারে, প্রত্যেকের কাছে তাদের চাহিদা অনুসারে!’ নীতিটি ঠিক এটাই নির্দেশ করে। সেই নীতিকে মেনেই কি চলতে পারবে আগামী দিনে দল। তাহলেই হয়তো সার্থক হবে এই ২৪ তম পার্টি কংগ্রেস।
