আজ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে সব পুলিশের সর্বস্তরের ছুটি বাতিল করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কারণ একটাই সামনেই বঙ্গে রামনবমী পালনের হুংকার দিয়েছে রাজ্য বিজেপি। রাজ্যে জুড়ে রামনবমী পালন ও তার মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের এই উঠে পড়ে লাগা। বেশ সেই একটা যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে গোটা রাজ্যে জুড়েই। একদিকে বিজেপির রামকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে যুদ্ধে নেমে পড়ার চেষ্টা করা, যে করেই হোক রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে হবে। আর শাসক দল এর পুলিশ বানর সেনার মত সব কিছু ত্যাগ করে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সব কর্মদিবসের ছুটি বাতিল করে তার মোকাবিলা করা। যে করেই হোক রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করতে দেওয়া। বেশ ভালো ব্যাপার কিন্তু। বঙ্গে এই রাম এর পূজা নিয়ে এখন জোর উৎসাহ আর উদ্দীপনা চলছে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁর ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন, ‘মাননীয়ার এত ভয় পেয়ে যাওয়ার কারণ কি? ৬ এপ্রিল রামনবমীতে যে ২ কোটি মানুষ রাস্তায় নামবে তাতেই ভয় পেলেন তিনি? নাকি ওয়াকফ বিল পাশ হলে তাঁর পরমপ্রিয় দুধেল গাইরা রাস্তায় নেমে পড়বেন সেই ভয়। নিজের ধর্মকে নোংরা বলার পরে বাঙালি সনাতনীদের জাগরণে ভয় পেয়ে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ভয়’ আমাদের ভালো লাগছে। মনে রাখবেন বিরোধী পরিসরের নেতৃত্বকে যেভাবে হেনস্তা করছেন, যাদের কাজে লাগিয়ে করছেন তারাও আপনার থেকে সরে গিয়েছে অনেকটা। আপনি যাচ্ছেন মাননীয়া, রামনবমীর দিনেই তা বুঝে যাবেন’। এই ভাবেই তাপ আর উত্তাপ এর আবহে জমে উঠেছে রামের মিছিলকে কেন্দ্র করে জন্মদিন পালন নিয়ে নাটক আর পাল্টা জবাব। যে করেই হোক রাজ্যে সরকার দমন করতে চায় এই বঙ্গে দেবতা রামের অবতরণকে। আর তার জন্য চায় পুলিশের সাহায্য। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস পুলিশকে সাথে নিয়েই বঙ্গে রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা আটকাতে চায় যে কোনো মুল্যে। আর তাই রাজ্যের সব জেলার পুলিশ সুপার, কমিশনারেট, আই জি,ডিআইজিদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে গেছে। এই রাম জন্মদিনের সপ্তাহে পুলিশের কোনো ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। আইনের শাসকরা রাম রাজ্য, সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যে লড়াই বিরোধীদের তাকে যে কোনোও মূল্য রুখবে। আর তাহলেই কেল্লাফতে। বিজেপির লাঠি চালনার রাজনীতির জোর বেশি না শাসকের পুলিশের ক্ষমতা বেশি সেটাই এখন দেখার বিষয়। দু পক্ষের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে গেছে যে,’ মারি করি পারি যে কৌশলে ‘ দু পক্ষই কৌশল অবলম্বন করে এগোতে চাইছে। যাতে তাদের স্বার্থসিদ্ধি হয়।
